Published : 14 Dec 2025, 07:14 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলিবর্ষণকারীদের পালানো ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারির মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
রোববার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিকালে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
হাদিকে গুলির ঘটনায় এ নিয়ে তিনজন গ্রেপ্তার হলেন জানিয়ে তিনি বলেন, শেরপুর থেকে গ্রেপ্তার দুজন ‘মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত’ বলে তথ্য আছে পুলিশের কাছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, এ দুইজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি র্যাব (হামলার সময় ব্যবহৃত) মোটরসাইকেলের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে। মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়।
চলন্ত অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির তার মাথায়।
গুরুতর অবস্থায় হাদিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, হাদির অবস্থা এখনো ‘আশঙ্কাজনক’।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ নামে ২ জনকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
পুলিশ বলছে, ফয়সল গুলি করেছে এবং আলমগীর মোটরসাইকেলের চালকের আসনে ছিলেন।
হামলকারীরা যাতে পালাতে না পারেন, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। এরই মধ্যে শেরপুর থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হোক। কিন্তু তারা রোগী (হাদি) নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আসছেন না।
“তবে আমরা মামলার খসড়া প্রস্তুত করেছি। সেটি নিয়ে হাসপাতালে যাব। যদি পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার সম্মতি না দেয়, তাহলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “যারা ইনকিলাব মঞ্চ পছন্দ করে না, তারাই হাদিকে হত্যার চেষ্টা করেছে।”