Published : 28 Apr 2026, 09:32 PM
দেশের জন্য কাজ করতে হলে অভিজ্ঞতা, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দরকার মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বট বাহিনী’ দিয়ে ‘মানুষকে ছোট করে’ রাজনীতি হয় না।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “শুধু ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে, ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হওয়ার জন্য বড় বড় কথা বলে পলিটিক্স হয় না।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, “দেশের জন্য যদি কাজ করতে হয়, দেশের জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অভিজ্ঞতা যেমন দরকার, সাহস যেরকম দরকার, বুদ্ধিমত্তাও সেরকম দরকার।”
বিএনপি ফেইসবুকে রাজনীতি করে না তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটির নেতাকর্মীরা মাঠে গুলি খেয়ে, টিয়ার গ্যাস খেয়ে, জেল খেটে রাজনীতি করেছেন।
তার ভাষায়, “শুধু বট বাহিনী দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে, আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে শামা ওবায়েদ অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কথাও বলেন।
এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, পরিচয় আড়াল করে রাজনীতি করাসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিচয় গোপন করে রাজনীতি করেননি বলেও দাবি করেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, “এই দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের ব্যাজ লাগিয়ে, শহীদ জিয়া, তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার টি শার্ট পরে তারা গুলি খেয়েছে, টিয়ার গ্যাস খেয়েছে, জেলে গিয়েছে। তারা পথ গোপন করে অন্য দলে থেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করে নাই।”
‘নবীনদের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে’
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। সে সরকারের আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তিন নেতাও ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “৫ অগাস্টের পরে যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকারে আমাদের যারা নবীনরা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও ‘আনফরচুনেটলি’ গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।”
এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাশিত নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, নতুন অভ্যুত্থানের কথা বলি, নতুন প্রজন্মের কথা বলি, তখন আমরা এই জিনিসটা আশা করি না।”
তার এ বক্তব্যের পর ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে দাঁড়ান বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নাহিদ ইসলামের নামে কী দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে? নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছেন? মাননীয় স্পিকার, আমি সেই প্রমাণ ওনাদের কাছে চাচ্ছি।”
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি কিছু সময়ের জন্য উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। ওই সরকারে আরও কয়েকজন ছিলেন; বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলও ছিলেন।
নাহিদ বলেন, “আমি তো নির্বাচনের বহু আগেই পদত্যাগ করে চলে এসেছি।
“এখন দুর্নীতির অভিযোগ যদি উনি বললেন, ওনারাই সরকারে আছেন। ওনাদেরকে এটা প্রমাণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে যেহেতু বলা হয়েছে, প্রমাণ দিতে হবে।”
পরে স্পিকার বলেন, শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে কারও নাম বলেননি। তিনি তরুণ সদস্যদের কথা বলেছেন।
নিজেকে নবীন সংসদ সদস্য হিসেবে তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, “আমার বয়স ২৮। আজকে আমার জন্মদিন এবং আমি নবীন সদস্য। কিন্তু এখানে মাননীয় স্পিকার আমিও জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে এসেছি।”
এরপর তিনি বলেন, “কারও ছোট ভাইয়ের ছোট ভাই হিসেবে আমি এখানে আসি নাই।”
সব সংসদ সদস্য যে সম্মান ও মর্যাদা প্রত্যাশা করেন, নবীন সদস্যরাও একই সম্মান প্রত্যাশা করেন, বলেন নাহিদ।
‘অন্তর্বর্তী সরকারও কি অবৈধ?’
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে সংসদে ওঠা প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, এই রাষ্ট্রপতিই ৫ অগাস্টের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়িয়েছিলেন। ওই সরকারের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া কয়েকজনও এখন সংসদে আছেন।
তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রপতি অবৈধ হয়, যদি রাষ্ট্রপতির ভাষণ অবৈধ হয়, তাহলে তৎকালীন সরকারও কিন্তু অবৈধ হয় নাকি, সেটা ভেবে দেখতে হবে।”
‘সংস্কার বিএনপির হাত দিয়েই আসছে’
জুলাই সনদ নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাই সনদ মানে সংস্কার। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে উন্নতির জন্য যত সংস্কার হয়েছে, তার প্রতিটিই বিএনপির হাত ধরে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খাল খনন, গার্মেন্টস শিল্প, পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে নারী শিক্ষা সবকিছুর পিছনে ছিল বিএনপির হাত, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ জিয়ার হাত।”
বর্তমান সংস্কারও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির হাত দিয়ে হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপির হাত দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ।”
জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের বিচারও বিএনপির হাত দিয়েই হবে, বলেন শামা ওবায়েদ।