Published : 20 Nov 2025, 11:10 PM
দেশের শিশু ও নারীদের শরীরে মাত্রাতিরিক্ত সীসা থাকার তথ্য দিয়ে এর উৎস হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মসলা, খেলনা ও প্রসাধনীর কথা বলেছেন ইউনিসেফের কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইউনিসেফ হাউসে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫ প্রাথমিক ফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে এ ব্রিফিং হয়।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক বিশেষ তহবিল— ইউনিসেফ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে জরিপটি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, তারা ১০ হাজার শিশু ও ৩ হাজার গর্ভবতী নারীর ওপর জরিপ চালিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সীসার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে গর্ভবতী নারীদের রক্তে। তাদের শরীরে সীসার এমন মাত্রা খুবই ভয়ঙ্কর। আমরা এগুলো জানিয়ে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলবো। এটা একটা হেলথ ইমার্জেন্সি।”
তিনি বলেন, “শিশুদের মস্তিস্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যহত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত সীসার কারণে। শহরাঞ্চলে এর মাত্রা বেশি। ঢাকায় এই হার ৬৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী সীসাদূষণে মৃত্যুর সংখ্যা এখন এইচআইভি, ম্যালেরিয়া এবং যক্ষ্মার সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। সীসাদূষণ ঠেকাতে জাতীয় পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এই সীসার উৎস কী জানতে চাইলে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “মসলা, বিভিন্ন ধরনের সীসাযুক্ত রং, নানা প্রসাধনী, এমনকি শিশুদের খেলনা হতে পারে সীসার অন্যতম উৎস।”
কোন ধরনের মসলায় সবচেয়ে বেশি সীসা পাওয়া গেছে জানতে চাইলে রানা ফ্লাওয়ার্স গুড়া মরিচের কথা উল্লেখ করেন। আর প্রসাধনীর ক্ষেত্রে বেশি সীসা রয়েছে চোখে মাখার সুরমায়।
সুরমায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সীসা পাওয়ার কথা তুলে ধরে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “ওটা ভয়ঙ্কর। ওটা ভর্তি কেবল সীসা। আপনারা বিষয়টিতে সতর্ক থাকবেন।”
সম্প্রতি সীসার দূষণযুক্ত খাবার খেয়ে জামালপুরে ২০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রানা ফ্লাওয়ার্স।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ‘পার্টনারশিপ ফর আ লেড ফ্রি ফিউচার (পিএলএফ)’ এর পরিচালক আবদুল্লাহ ফাদিল।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আট কোটির বেশি শিশু সীসাদূষণের শিকার। এটি শিশুদের জন্য এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। সীসা শিশুদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মস্তিষ্কের বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এই ভারী ধাতুর ফলে প্রতিটি শিশুর আইকিউ (মানুষের বয়স ও মানসিক বয়সের অনুপাত) ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের অর্ধেকের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারী রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছেন। তাদের সংখ্যা ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশের শরীরে সীসার মাত্রা সহনশীল মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে প্রসবের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের হার ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর পরিবারের সহিংস আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, “৮৬ শতাংশ শিশু নিজ বাড়ির মধ্যেই কোনো না কোনোভাবে সহিংস শাস্তির শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের এ হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।”