১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল: বাদীর আইনজীবী

টাস্কফোর্সের তদন্ত ইতোমধ্যে ‘অনেকদূর’ এগিয়ে গেছে বলে ভাষ্য তার।

সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল: বাদীর আইনজীবী
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচারের দাবি তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘরে চিত্র প্রদর্শনী চলছে। বাবা-মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে একমাত্র ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Feb 2025, 05:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:48 AM

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্তে আওয়ামী লীগ সরকারের তরফে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। 

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রঙ্গণে তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্টরা আমাদের জানিয়েছেন, আগের সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তদন্তে বাধা দেওয়া হতো। এ কারণে তদন্ত আগায়নি।”

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। তাদের একমাত্র ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ সেসময় বাসায় ছিল। তখন মেঘের বয়স ছিল ৫ বছর।

সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা থানায় মামলা করেন। ১৩ বছর পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “বর্তমান সরকার আসার পর হাই কোর্ট মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের কথা রয়েছে।” 

মা-বাবাকে হারানোর ১৩ বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার ফেইসবুকে এ ছবি পোস্ট করেন মাহির সারোয়ার মেঘ।

মা-বাবাকে হারানোর ১৩ বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার ফেইসবুকে এ

টাস্কফোর্সের তদন্ত ইতোমধ্যে ‘অনেকদূর’ এগিয়ে গেছে বলে ভাষ্য তার।

আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে মামলার বাদী নওশের রোমান, সাগর-রুনির ছেলে মাহির সারওয়ার মেঘ উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শেরেবাংলা নগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন পর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের রহস্য উন্মোচন করে তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে; কিন্তু এক যুগেও সে রহস্য উন্মোচন আলোর মুখ দেখেনি।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র‌্যাবকে বাদ দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে এ তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে ছয় মাস বেঁধে দেয় হাই কোর্ট।

মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরানোর একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের বেঞ্চে এ আদেশ দেয়।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ