Published : 07 Sep 2025, 09:47 PM
ভাদ্রের গরমকে ‘তালপাকা গরম’ বলে থাকেন অনেকে। শরতের এই মাসের শেষ দিকে এসে সেটি যেন ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ।
ঢাকা শহরের ওপর দিয়ে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুড়েছে মানুষ।
এদিন দিনের বেলায় তাপমাত্রার পারদ নেমে এলেও দিনভরই ঢাকায় রোদের উত্তাপ ছড়িয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শ্রমজীবী মানুষ।
বাংলামোটর এলাকায় পানি বিক্রি করছিল শিশু সজীব হোসেন। ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতে হাঁটু মুড়ে বসে থাকতে দেখা গেল তাকে।
জানতে চাইলে সে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলে, “পানি বিক্রি করে লাভের টাকায় পানিই খাচ্ছি; অসম্ভব গরম। বাসে ছোটাছুটি করে কিছুক্ষণ পানি বিক্রি করলে ক্লান্তি লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে। তাই এভাবে বসে ছিলাম।”
কারওয়ান বাজার এলাকার ফুটপাতের চা দোকানি মো. আবিদ হোসেনও বলছিলেন একই কথা। তিনি বলেন, “গরমে অবস্থা নাজেহাল। একটা ছোট টেবিল ফ্যান চলে সারাক্ষণ, তারপরও গরম কমে না।”
এ অবস্থায় সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
রোববার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের কোথাও ১০ তারিখ, কোথাও আবার ১১ বা ১২ তারিখের দিকে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এখনো বিভিন্ন জায়গায় ভালো বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ১১ তারিখ থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরে এদিন রাতের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজস্থান এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর গুজরাট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রথমে স্থল নিম্নচাপ আকারে ও পরবর্তিতে গভীর স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এই সময়ে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, উপজেলাটিতে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল।
এই সময়ে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে; ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছে সিলেটে। জেলায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া, নেত্রকোণায় ৭৬, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৪ এবং কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে।