Published : 13 Oct 2025, 08:44 PM
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতার দাবিতে ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচিতে থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি মানতে সরকারকে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সোমবার দ্বিতীয় দিনের মত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে।
জোটের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও এনটিআরসিএ সুপারিশ প্রাপ্ত শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম-বিটিএফের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজু বলেছেন, রাতেও তারা শহীদ মিনারে অবস্থান করবেন।
তিনি রাত ৮টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারী ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
“দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি চলবে।”
আন্দোলনকারীদের ওপর রোববারের ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে সোমবার থেকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'লাগাতার কর্মবিরতি' পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা পালন হলেও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলেছে।
সকালে অবস্থান কর্মসূচিতে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য এসেছে ৯০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মবিরতি পালন করছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পালন করছে না। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।"
রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক-কর্মচারীদের এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর দেড়টায় তারা পুলিশের অনুরোধে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের সামনেই অবস্থান ধরে রাখেন।
পুলিশ তাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলে যেতে বললে শিক্ষকদের একটি অংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলতে থাকেন। এক পর্যায় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে দেয়। প্রেস ক্লাবের সামনে জলকামানও আনা হয়।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে এরপর সোমবার থেকে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার; তবে গত ৫ অক্টোবর এই ঘোষণা প্রকাশ্যে এলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ডাক দেন।
এরপর গত ৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা অন্তত দুই হাজার বা তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। আর ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, যা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়।
আগে তারা বছরে ২৫ শতাংশ হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পেলেও গত মে মাসে বাড়ানোর পর এখন মূল বেতনের ৫০ শাতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন।