Published : 06 Jul 2026, 04:12 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।
ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুবরাজের চিঠি পৌঁছে দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চিঠিতে ক্রাউন প্রিন্স জানান যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
“তিনি আরও বলেছেন, সৌদি আরবের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভ্রাতৃসুলভ মনোভাব দুদেশের সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত বহন করে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানও শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সৌদি রাষ্ট্রদূত বৈঠকে জানান।
“আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের জন্য তার সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণকে স্বাগত জানিয়ে তা গ্রহণ করেন।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আগামী সপ্তাহে ঢাকা আসছে।
সোমবারের বৈঠকেও সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী একে স্বাগত জানিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সচিবালয়ে ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “এই মতবিনিময় থেকে আপনারা বুঝতে পারছেন, আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে চাই। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল। আমরা এটাকে আরও শক্তিশালী করব এবং ইনশাআল্লাহ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যাবে।”
দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আজকের আলোচনায় সৌদি আরবের বেসরকারি খাত এবং সরকারের তরফে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
“আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য এটা তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। কেননা, আপনি দেখছেন কেবল প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, পাশাপাশি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সুতরাং এটা দুদিক থেকেই।”
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তারেক রহমান। বিশেষ দূত হিসাবে ওই চিঠি নিয়ে গিয়েছিলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন।
সেই প্রসঙ্গ টেনে সোমবার তিনি বলেন, “সরকার গঠনের চার মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমরা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পেরেছি। আপনারা জানেন, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার বিশেষ দূত করে পাঠিয়েছিলেন।
“আমি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছি এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিব্যক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দারুণ শুভকামনা অর্জন করেছে। তার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের সঙ্গে আমরা আমাদের কৌশলগত যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব বাড়াব।”
এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর গ্রীষ্মকালীন সময়ের পরে হতে পারে। তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তারেক রহমান না মোহাম্মদ বিন সালমান, কে আগে সফর করবেন, তাও ঠিক হয়নি।