Published : 25 Nov 2025, 02:35 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শনিবার ‘মক ভোটিং’ এর আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, “২৯ নভেম্বর সকল ধরনের ভোটারের প্রতিনিধিদের নিয়ে, শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত ভোটের এ মহড়া চলবে। এতে ভোটার সংখ্যা থাকবে দেড় হাজারের মধ্যে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের নমুনা ও গণভোটের ব্যালট পেপারের নমুনা নিয়ে এ ভোটের মহড়া হবে বলে জনসংযোগ পরিচালক জানিয়েছেন।
ইসির এ কর্মকর্তা বলেন দুইটি ভোট দিতে কেমন সময় লাগে, কি ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে, আইন শৃঙ্খলা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, সমন্বয় সেল, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ সব ধরনের ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে ‘মক ভোটিং’ এ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি। তাতে সার্বিক প্রস্তুতিও সহায়তা হবে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নিয়োগ পান। পাঁচ সদস্যের এ কমিশন ২৪ নভেম্বর শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও এক বছরে কোনো ভোট করার সুযোগ হয় নি।
এবার প্রথমবারের মত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক সাথে অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে ভোটের মহড়াও হয়ে যাবে। মক ভোটিংয়ের আয়োজন করছে ইসি নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট।
ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. হাসানুজ্জামান বলেছেন আধাবেলা মক ভোটিংয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ইটিআইয়ের ঊর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, “সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলা ভোটে সময় কেমন লাগে, কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে-এসব দেখার জন্য ডেমোনেস্ট্রেশন করছি। এখানে ভোট আয়োজনের সব কিছু থাকবে, এ মহড়া ভোটের মডেল তৈরি করা হচ্ছে। ব্যালট পেপারসহ সব কিছু নমুনা থাকবে, যা থেকে প্রকৃত ভোটের চ্যালেঞ্জ জানা সম্ভব হবে। সিনিয়র সিটিজেন, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, পোস্টাল ব্যালটের ভোট এলে কি করবে, গণণা হবে- সব কিছু থাকবে।”
মক ভোটিংয়ে ভোটার, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকসহ নির্বাচনে যা যা দরকার সবই থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা, মোবাইল নম্বর, নাম, এনআইডি নিয়ে আলাদা ভোটার তালিকা হবে, সংসদ ও গণভোট এক সাথে করা হবে।”
সংসদের ব্যালট সাদা, গণভোটের পিংক
মক ভোটিংয়ে কর্মপরিকল্পনাও করে রেখেছে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট। এতে ভোটার সংখ্যা দেড় হাজারের কমবেশি বাছাই করে নেওয়া হবে।
ন্যূনতম পরিকল্পনায় রয়েছে-
• কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকবে ১৫০ জন।
• যারা প্রথম ভোটার এমন ৫০ জন ছাত্র ও ছাত্রী; ১০ জন স্কাউট/রোভার স্কাউটস/বিএসসিসির সদস্য।
• প্রতিবন্ধী ভোটার ৫ জন।
• জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র সিটিজেন) ভোটার ৪০ জন।
• বস্তিবাসী ভোটার ১০০ জন (নারী, পুরুষ)।
• তৃতীয় লিঙ্গের ১০ জন।
• ভোটার সংখ্যা দেড় হাজার বিবেচনায় নিয়ে ভোট সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
• ব্যালট পেপারে নমুনা- গণভোটের ব্যালট পেপার পিংক ও সংসদের সাদা; প্রতীক অতিরিক্ত তালিকা থেকে নেওয়া হবে।
• পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক ব্যবস্থাপনা; বয়স্ক, সন্তান সম্ভবা ও বয়স্কদের ভোট দিতে সহযোগিতা, নির্বাচনি সামগ্রীর প্রদর্শন, ছবিসহ ভোটার তালিকা ছবি ছাড়া ভোটার তালিকা।
• ভোট গ্রহণের বিভিন্ন সরঞ্জাম (স্ট্যাম্প প্যাড থেকে দিয়াশলাই, সুই সুতাসহ সবকিছু); আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত, স্ট্রাইকিং ফোর্স, এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ক্যাম্প স্থাপন, প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনি এজেন্ট, পরিচয়পত্র, ভোটগণনা ও ভোটের ফলাফল ঘোষণা সবই রাখা হয়েছে কর্ম পরিকল্পনায়।
• কেন্দ্রীয় কমিটি, আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক ব্যবস্থাপনা, ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনা, ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও সামগ্রী ব্যবস্থাপনা, সাংবাদিক পর্যবেক্ষক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে ইসি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
• রিটার্নিং অফিসার, সহকারি রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, ভোটার স্লিপ সরবরাহ, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, মনিটরিং কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা ডামি ভূমিকায় থাকবেন।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: তফসিল ঘোষণা কবে?
সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে সামলাবে কীভাবে ইসি?
ভোটের কেন্দ্র করা হয়েছে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়কে। পুরুষ ও মহিলা ভোটকক্ষ রেখে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় বেস্টনি তৈরি করা হবে।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হবে। এ লক্ষ্যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে ইসির।।
সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ ধাপে রয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশও মঙ্গলবার অনুমোদন হয়েছে।
এখন দুই ভোট একসাথে করার কর্মপরিকল্পনায় তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।