Published : 05 Apr 2026, 03:14 PM
বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে তেজগাঁওয়ের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো নাসা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা প্রায় চার ঘণ্টা পর সরে গেছেন।
আলোচনার মাধ্যমে তাদের পাওনা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে রোববার বেলা ২টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও লিংক রোডে নাসা গ্রুপের অফিসের সামনে প্রায় ৭-৮শ’ শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে তারা মহাখালী-নাবিস্কো প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরফলে আশেপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে প্রায় আধঘণ্টা পর প্রধান সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু তারা নাসা গ্রুপের অফিসের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান ওসি মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল মন্ত্রণালয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও সরকারের পক্ষের একটি বৈঠক হবে। বৈঠকে তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, এমন আশ্বাসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে ফিরে গেছেন।”
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ট্রাফিক গুলশান বিভাগের এক ফেইসবুক পোস্টে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে তেজগাঁও থেকে মহাখালী রুটের উভয়পাশেই যান চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছিল।
তখন বিকল্প হিসেবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে এবং মহাখালী ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল।
এছাড়া কাকলী থেকে গুলশান-নতুনবাজার হয়ে চলাচল করতেও বলা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি এক্সিম ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। ২ অক্টোবর তিনি গ্রেপ্তার হন। দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কয়েকটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে।
এর পর থেকেই অস্থিরতা তৈরি হয় নাসা গ্রুপের কারখানাগুলোতে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়তে থাকে; অপরদিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন।
গতবছর সেপ্টেম্বরে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় সভায় নাসা গ্রুপের ১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, বিদ্যুৎ-গ্যাসসংকট ও ক্রয়াদেশ না থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসব কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ১০টি, গাজীপুরে দুটি, চট্টগ্রাম ইপিজেডে দুটি এবং কুমিল্লা ইপিজেডে দুটি কারখানা রয়েছে এর মধ্যে।
ভোটের আগে আদালতের নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ‘সার্ভিস বেনিফিট’ পরিশোধ করার কথা জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।