জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার পেলেন তিন কবি

জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার পেয়েছেন রুবী রহমান (২০২২), অসীম সাহা (২০২৩) এবং কাজল বন্দোপাধ্যায় (২০২৪)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 02:43 PM
Updated : 2 Feb 2024, 02:43 PM

ফিলিস্তিনে যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানানোর মধ্যে দিয়ে শেষ হল দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব।

কোভিড মহামারীর সময় ২০২১ ও ২০২২ সালে জাতীয় কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবারের আসরে তিন বছরের পুরস্কার একসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কারের জন্য তিন বছরের জন্য মনোনীতরা হলেন রুবী রহমান (২০২২), অসীম সাহা (২০২৩) এবং কাজল বন্দোপাধ্যায় (২০২৪)।

শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে ৩৬তম জাতীয় কবিতা উৎসবের সমাপনী দিনে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

‘যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা’ স্লোগান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয় ৩৬তম জাতীয় কবিতা উৎসব।

উৎসবের শেষ দিনের শুরুতে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ছয় পর্বে সারাদিন চলে কবিতা ও ছড়া পাঠ। এতে অংশ নেন দেশ-বিদেশের কবিরা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে কবিতার গান পর্বের মাধ্যমে উৎসব শেষ হয়।

সেমিনারে ‘যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি গবেষক মফিদুল হক।

তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের অকল্পনীয় নিষ্ঠুরতা চলছে। পাশ্চাত্য-উদ্ভুত মঙ্গলময় বিশ্বের বয়ান ইসরায়েলের সহিংসতার মুখে শুধু নিশ্চুপই নয়, নানাভাবে জোগাচ্ছে অস্ত্র ও ইন্ধন। প্রতিদিনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পশ্চিমা সমাজের স্বরূপ উন্মোচিত হচ্ছে।

“মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রগুলোর দ্বিচারিতা ও অনৈতিকতার বিপরীতে পূর্ব থেকে ঘটছে নতুন জাগরণ। ইসরায়েল-পরিচালিত গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশও ওই মামলায় অন্যতম রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছে। পাল্টে যাওয়া নতুন পৃথিবীর প্রত্যাশায় আমরা রইলাম। কবিতা মানুষে-মানুষে সংযোগের যে বাণীমন্ত্র বহন করে, নতুন মানবিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় সেই কবিতাই আমাদের আশ্রয়৷”

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, “ফিলিস্তিনে গণহত্যার কথাটা কেউ সোচ্চারভাবে বলছে না৷ পাশ্চাত্যও এখন গণহত্যাকে গণহত্যা বলছে না৷ তবে কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকেরা হত্যা-গণহত্যার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থেকেছেন৷ গণহত্যার স্মৃতিটা তারাই সবসময় উজ্জীবিত রাখেন৷”

তিনি বলেন, “কবিতা উৎসব আমাদের এখানে প্রতিরোধের একটি প্রতীক৷ আমরা চাই, এটা অক্ষুণ্ণ থাকুক৷ কারণ ভবিষ্যতে আমরা যে বাংলাদেশ দেখব বলে আশঙ্কা করছি, সেটি খুব শুভ নয়। এরই মধ্যে মিছিলে লোক কমে গেছে। আগের মতো সে রকম সোচ্চার কেউ নেই। নতুন কোনো জোয়ারও আমরা দেখিনি। হয়তো সেটা আমাদের ব্যর্থতা।”

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, “কবিতা প্রতিরোধের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। কবিদের প্রধান শত্রু মনে করেছে গণহত্যাকারীরা। কবিরা গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। একাত্তরে সাংস্কৃতিক লড়াইয়েও কবি-কবিতা ছিল। একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে গণহত্যায় মদদ দিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন কবিরা গণহত্যার বিরুদ্ধে লিখেছেন। এই যুক্তরাষ্ট্র উপনিবেশ স্থাপন করতে গিয়ে ৫০০ বছরে ১৪ কোটি মানুষকে হত্যা করেছে। কবিরা এর বিরুদ্ধে লিখেছেন।” 

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, “কবিতা, গান ও নাটকের মাধ্যমে আমরা হয়ত যুদ্ধ বন্ধ করতে পারব না৷ কিন্তু যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটা সোচ্চার কণ্ঠ তো আমরা জারি রাখতেই পারি৷”

সেমিনারে আরও কথা বলেন ভারতের কবি ও পশ্চিমবঙ্গ কবিতা অ্যাকাডেমির সভাপতি সুবোধ সরকার, নেপালের কবি বিধান আচার্য, ত্রিপুরার আগরতলা থেকে আগত কবি দিলীপ দাস, ইরানের কবি ও অধ্যাপক মাজিদ পুইয়ান।

মাজিদ পুইয়ানের কথা বাংলায় অনুবাদ করে শোনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন।