বিদেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

কোলকাতা, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, লন্ডন, মিশিগান এবং ওয়াশিংটন-এ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে লিখেছেন কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালসাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
Published : 14 August 2022, 08:05 PM
Updated : 14 August 2022, 08:05 PM

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতার মহান রূপকার, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা, সন্মান, ভালোবাসা স্বদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেই গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় নানা দেশে তাঁকে নিয়ে নির্মিত গৌরবোজ্জ্বল ভাস্কর্যে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু প্রচুর প্রতিকৃতি করা হয়েছে, তবে দেশের বাইরে বন্ধু-প্রতিম ভারতের কলকাতায় প্রথম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপিত হয়। এরপর এক এক করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নামকরা শহরে বঙ্গবন্ধুর আটটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে। এরমধ্যে কলকাতায় দু’টি আর বাকি ছয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ও মিশিগানে, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে, ফ্রান্সের প্যারিসে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এবং মিশরে ।

এই আটটির একটি ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কলকাতা উপ-দূতাবাসের রয়েছে একটি। দুই দেশের সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে প্যারিসের অদূরে পারে ল্য মনিয়ালে এবং তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায়। দু’টি যথাক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কলকাতা বেকার হোস্টলে আর ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনির সহযোগিতায় সিডনিতে। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীর উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে যথাক্রমে মিশিগানে ও লন্ডনে। আবার এগুলো নিয়ে কোর্টকাচারি, মামলাও হয়েছে, প্রতিবাদও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয় অর্জিতও হয়েছে, মাথা উঁচু করে অবস্থান করছে ভাস্কর্যগুলো।

কলকাতা

বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় শিয়ালদহের কাছে ৮ স্মিথ লেনে বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪৫-৪৬ সালে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে ১৯৯৮ সালের ৩১ জুলাই উক্ত বেকার হোস্টেলের ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে গড়া হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ। তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক সত্যসাধন চক্রবর্তী। পরে ২০১১ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উন্মোচন করেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রি দীপু মণি। সেটি বঙ্গবন্ধুর চেহারার সাথে পুরোপুরি মিল না থাকায় ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে প্রতিস্থাপিত হয়। দ্বিতীয় বার পূনঃস্থাপিত ভাস্কর্যের উন্মোচন করবেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ভাস্কর মুখার্জি।*(১)

কেউ কেউ এই ভাস্কর্য সরানোর দাবি নাকচ করে দিয়ে দৃঢ় কন্ঠে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমাদের দুই বাংলার প্রেরণা। তাঁর ভাস্কর্য সরানোর প্রশ্নই ওঠে না। কেউ তার ভাস্কর্য সরানোর কথা বললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যের কোনো ইজারা হয় না। বঙ্গবন্ধু দুই বাংলার কাছেই শ্রদ্ধেয়, স্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের প্রেরণা। তাঁর স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে সংরক্ষণ করাই আমাদের কর্তব্য। এর কোনো রকম বিরোধিতা বরদাশত করা হবে না। কেউ প্রতিরোধ তৈরি করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’*(২)এদিকে কলকাতার উপ-দূতাবাসে স্থাপিত ২০২১ সালে তৈরি হয় আরেকটি ভাস্কর্য। যার কারিগর নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী সুবীর পাল। ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জ ধাতুর নির্মিত।*(৩) এছাড়াও উক্ত উপ-দূতাবাসের ভেতরে তৈরি হয়েছে একটি স্থায়ী ‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ’।*(৪)

তুরস্ক

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর প্রশস্থ আট লেনের একটি সড়ক; যার নাম ‘বঙ্গবন্ধু সড়ক’। ১৯৯৭ সালে আঙ্কারা সিটি করপোরেশন এই সড়কের নামকরণ করে। সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য। নিচে শ্বেতপাথরে তার্কিশ ভাষায় খোদাই করে লেখা বঙ্গবন্ধুর জীবনী। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত কবি মসয়ূদ মান্নান জানায়, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তুরস্কের বাংলাদেশ দূতাবাস ও ঢাকা উত্তর সিটি করপারেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় এই আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করেছে আঙ্কারা সিটি করপোরেশন। এটি তৈরি করেছেন তুরস্কের বিখ্যাত ভাস্কর মের্ট কিলিন। ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবক্ষ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও আঙ্কারার পাহাড়ি আবাসিক এলাকা কেসিওরানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল পার্ক নামে একটি পার্কও উদ্বোধন করা হয় একই সময়ে। বঙ্গবন্ধুর নামে সড়ক, ভাস্কর্য এবং পার্ক থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে মোড়টি পরিচিতি পেয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’ নামে। এদিকে, ঢাকার বনানীতে তুরস্কের জাতির পিতা কামাল আতাতুর্কের নামে একটি সড়কের নামকরণ করে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন। এখন ঢাকার বনানী পার্কের নাম পরিবর্তন করে কামাল আতাতুর্কের নামে নামকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএনসিসি।*(৫)

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনির আইন অনুষদের সামনে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে স্থাপিত হয়েছে আরেকটি অনিন্দ্য ভাস্কর্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দাউদ হাসান আইন অনুষদের আন্তর্জাতিক সমুদ্রশাসন কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। যিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম সমুদ্র আইন প্রতিষ্ঠাতা করেন। যে আইনে সমুদ্রসীমানা নির্ধারণ ও সমুদ্রের সম্পদ আইন অনুযায়ী আহরণ ও বণ্টিত হয়।

সেই স্বীকৃতি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক বার্নি গ্লোভার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক জামাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে তরুণ দুই ভাস্কর চঞ্চল কর্মকার ও লিটন পাল এই ভাস্কর্য তৈরি করেন। ২.৫ মিটার উচ্চতার এই ভাস্কর্য তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ব্রোঞ্জ। ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রি এডভোকেট আনিসুল হক। *(৬)

ফ্রান্স

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে পারে ল্য মনিয়াল নগর। সেই নগরে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ২০১১ সালে প্রথমে স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। পরে সেখানে পাথরে তৈরি করা হয় চমৎকার একটি ভাস্কর্য। বাঙালি ব্যাবসায়ী কাজী এনায়েত উল্লাহর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় ল্য মনিয়াল পৌর কর্তৃপক্ষ এবং নগরের মেয়র জঁ মার্ক নেম সহযোগিতায় প্রথমে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার এবং পরে ভাস্কর্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তার আগে ফ্রান্স পার্লামেন্টে মেয়র জঁ মার্ক নেম এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। ৩০ এপ্রিল ২০১১ কর্তৃপক্ষ সেই স্কয়ারের স্থান নির্ধারন করেন।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে সম্মানের সঙ্গে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে ভাস্কর্য উদ্বোধনের জন্য একটি অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। *(৭)

লন্ডন

পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসের সিডনি স্ট্রিটে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আরেকটি অসাধারণ ভাস্কর্য। ২০০৯ সালে জনাব আফসার খান সৈয়দ আলোচ্য ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি চাইলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালে ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি দেয়। পরে ভারতের দু’জন শিল্পী কর্তৃক নির্মিত নান্দনিক ভাস্কর্যটি এনে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় স্থাপন করেন।

২০১৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভাস্কর্যটি উন্মোচন করেন তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ইংল্যান্ডের টুরিস্ট গাইড ব্লুবেইজ হেরিজেকসনে বঙ্গবন্ধুর গৌরবোজ্জ্বল ভাস্কর্যটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে মর্যাদা অর্জন করে।*(৮)

উল্লেখ্য, মাদাম তুসোতে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে বেশ ক’বার। এ প্রসঙ্গে আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘বেকার স্ট্রিটের কাছেই মাদাম তুসোতে গান্ধী, নেহেরু, জোমো কেনিয়াতা প্রমুখ এশিয়ান ও আফ্রিকান নেতাদের স্ট্যাচু দেখে আমার মনে হয়েছিল, এই মাদাম তুসোতে বঙ্গবন্ধুর একটি লাইফ-সাইজ স্ট্যাচু নেই কেন? ...আমি লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন হাইকমিশনার সৈয়দ আবদুল সুলতানকে আমার মনের কথাটি জানিয়েছিলাম। তিনি বললেন, বঙ্গবন্ধু এ ব্যাপারে আগ্রহী নন। তাছাড়া এই স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠায় বড় রকমের খরচপত্রও আছে। বঙ্গবন্ধু নিজের জন্য এই খরচপত্রে আগ্রহী নন’।*(৯)

লন্ডনের মাদাম তুসোতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য না থাকলেও কলকাতার মাদাম তুসোতে রয়েছেন তিনি। কলকাতাস্থ নিউ টাউনে অবস্থিত মাদাম ওয়াক্স মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর একটি মোমের প্রতিকৃতি। আসানসোলের সুশান্ত রায় এই মোমের মূর্তিটির কারিগর।

উচ্চতায় পাঁচ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং চওড়ায় ৪৪ ইঞ্চি এবং ২২ কেজি ওজনের এই প্রতিকৃতিটি ২০১৫ সালে উন্মোচন এবং উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসময় তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বঙ্গবন্ধু নন, বিশ্ববন্ধু।*(৯/ক)

মিশিগান

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্র্যামাক শহরের বাংলাদেশ অ্যাভিনিউয়ে (কনান্ট স্ট্রিট) প্রথমবারের মতো ৯ ফুট উঁচু বাই ৫ ফুট প্রস্থের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপিত হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে। তাদের অর্থায়নে এই প্রতিকৃতি নির্মাণে মোট খরচ হয় ৮ হাজার ডলার। প্রতিকৃতির ঠিক সামনে শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের ফুলের গাছ।

মিশিগান স্টেট যুবলীগের সভাপতি জাহেদ মাহমুদ আজিজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুদ্দোজা জুনেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট এই ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মিশিগান ১৪ ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেসওমেন ব্রেন্ডালরেন্স, ৯ ডিস্ট্রিক্টের মিশিগান স্টেট সিনেট সদস্য পল ওজনো এবং ২৮ ডিস্ট্রিক্টের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটি ভলরি স্টোন।*(১০)

ওয়াশিংটনে

মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য রয়েছে। ইতঃপূর্বে দূতাবাস বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হতো। এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের সামনেই সকল জাতীয় দিবস পালিত হয়।*(১১) ওয়াশিংটন ডিসি বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানা গেছে, ১ অক্টোবর ২০১৭ সালে পিতার ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা।

এখানে উল্লেখ্য, শুধুমাত্র বাংলাদেশি শিল্পীই নন; অনেক বিদেশি শিল্পীও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য করেছেন। তার মধ্যে আমেরিকান, ভারতীয়, তুর্কি এবং চাইনিজ শিল্পী অন্যতম। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, চীন নির্মিত ভাস্কর্যটি দেশ এসেছে। যেটি ধোলাইপাড় মোড়ে স্থাপিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।*(১২)

মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে পিতলের তৈরি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাস্কর্য ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার কাছে উপহার হিসেবে হস্তান্তর করেন।*(১৩)

এভাবেই ভাস্কর্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ছড়িয়ে আছেন বিশ্বের দেশে দেশে। অদূর ভবিষতে কানাডাতেও স্থাপিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আরেকটি ভাস্কর্য!

তথ্যসূত্র:

০১) বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকক্ষের সামনে বসছে ভাস্কর্য/ কলকাতা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো, ০৩ আগস্ট ২০১৯, ঢাকা।

০২) বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরানোর কথা বললে কঠোর ব্যবস্থাঃ মমতা/ পূর্বপশ্চিম ডেস্ক, প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০১৮, ঢাকা।

০৩) দৈনিক আজকাল, ২২ জুন, ২০২১, কলকাতা।

০৪) বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, আগস্ট ১৩, ২০২০, ঢাকা।

০৫) ডেইলি ষ্টার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২১, ঢাকা।

০৬) দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ মার্চ ২০১৭, ঢাকা।

০৭) বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মে ২৮, ২০১৪, ঢাকা।

০৮) লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উন্মোচন/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬, ঢাকা।

০৯) আমাদের প্রতিদিন, ১৫ আগস্ট ২০১৭, ঢাকা।

০৯/ক)দৈনিক আজকাল, ০৯ অক্টোবর, ২০১৫, কলকাতা, ভারত।

১০) দৈনিক সমকাল, ১৯ আগস্ট ২০২০, ঢাকা।

১১) বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি, আমেরিকা।

১২) মুজিব ভাস্কর্য: চীনে তৈরি ভাস্কর্যটি স্থাপনার কাজ শেষ পর্যায়ে/ বিবিসি বাংলা, ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর ২০২০।

১৩) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, ১৫ মার্চ ২০২১, ঢাকা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক