অপ্রতিমের বাবা-মাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোনে ‘হয়রানি’, থানায় জিডি
“আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।”
কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা ও বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ‘হয়রানি ও অশোভন আচরণ’ করার অভিযোগ উঠেছে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে ‘নানা ধরনের অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে তারা অভিযোগ করছেন।
এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগম।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, “সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”
জানতে চাইলে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “বিভিন্ন ফেইসবুক আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।
“এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।”
অপ্রতিম কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় সে।
পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
দুদিন পর পুলিশের তরফে বলা হয়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে নাহিদা বেগম এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ছিলেন। সে সময় কয়েকজন কিশোর অপরাধীকে তিনি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনাও অপ্রতিম হত্যার পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে তার মায়ের সন্দেহ।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি দুজনকে পাঠানো হয়েছে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
