Published : 11 Oct 2025, 11:57 PM
বাইরে থেকে এসে একটা ভাষা যিনি শেখেন, তিনি শুধু ভাষার কঙ্কালটাই দেখতে পান বলে মনে করেন লেখক, সাহিত্য সমালোচক ও অধ্যাপক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক।
তিনি বলছেন, "আমি ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্সের’ বিরুদ্ধে। আমাদের নিজেদের তথাকথিত যে ভাষা, তা থেকেও আমরা বহিরাগত। বাইরে থেকে এসে একটা ভাষা যিনি শেখেন, তিনি ভাষার কঙ্কাল দেখতে পান।"
শনিবার 'বরিশাল অ্যান্ড বিয়ন্ড' বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রবন্ধ সংকলনটির রচয়িতা গবেষক ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এমিরেটাস অধ্যাপক ক্লিনটন বি সিলি।
ঢাকায় দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি।
শুরুতে সদ্যপ্রয়াত এমিরেটাস অধ্যাপক ও সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
বইটি ইউপিএল থেকে প্রকাশ হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য দেন অধ্যাপক সাঈদ চৌধুরী।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে অধ্যাপক ক্লিনটন বি সিলি বলেন, "পরিচয়ের রাজনীতির বিষয়টি আলোচনার সময় এখন যথোপযুক্ত, কারণ এখন এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকাকে দেখা হয় সাদাদের দেশ হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের দেশ' এর সঙ্গে এর বিষয়গুলোর মিল আছে।"

ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক, তার ব্যাখ্যা একটু মুশকিল মন্তব্য করে অধ্যাপক স্পিভাক বলেন, "যখন আমি বাঙালিদের সঙ্গে, তখন আমি বাংলাভাষী ও বাঙালি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একজন ডিপ্রাইভড মাইনরিটি। তাহলে নিজেকে আমি কোন ইতিহাসের অংশ মনে করব।
"ইতিহাস লিখতে গিয়ে ও জানতে গিয়ে আমরা মনে করি আমরা তার ভেতরে আছি। তবে এর কোন অংশে আমি আছি, তা কীভাবে নির্দিষ্ট করা হবে।"
ভাষাতত্ত্ববিদ, লেখক, সমালোচক ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, "বরিশাল অ্যান্ড বিয়ন্ড বইয়ে অবাঙালি হয়েও বাংলা সাহিত্যের যে দিকগুলো তুলে ধরেছেন- এর জন্য তার অবাঙালি বহিরাগত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মঙ্গলকাব্যের সঙ্গে তাসের দেশের যে মিল রয়েছে, এটি ক্লিনটন বি সিলি ধরতে পেরেছেন।"
ভ্রমণবিষয়ক লেখক ও অনুবাদক ফারুক মাইনুদ্দিন বলেন, ‘আ পোয়েট অ্যাপার্ট’ অনুবাদ করার সময় থেকে অধ্যাপক সিলির সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। অধ্যাপক সিলি আমাকে এই বইটি অনুবাদ করতে বলেন। বইটির বাংলা অনুবাদের শিরোনাম নিয়ে এখনো চিন্তাভাবনা চলছে।"
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম বলেন, "বরিশাল অ্যান্ড বিয়ন্ড এ বাংলা সাহিত্যের অংশটি খুব ভালো লেগেছে। এই দেখা বা দর্শন বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।"
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নাজিয়া মনজুর।
অনলাইনে বইটির আলোচনায় আরও যুক্ত ছিলেন লেখক ড. শামসুল বারি, ভ্রমণ বিষয়ক লেখক মঈনুস সুলতান, অধ্যাপক ফখরুল আলম, অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহ্রুখ মহিউদ্দীন।