Published : 09 Jul 2026, 03:11 PM
অচিন ঝাঁকি
সবকিছু কাছাকাছি, কোথাও দূরে নয়, একহাত দূরে
সংসদে ভিখারিদের নিয়ে কী আলাপ হচ্ছে তা জানি না।
কোন একটা গাড়ি এদিকে স্লো ডাউন করছে কী-না
মনে হয়, তা দেখার জন্যই আস্ত এক মানবজন্ম আমার।
সবকিছু ভোঁভোঁ করে- কোথাও একটা মাছি ওড়ে না
উড়ছে না ঢালু দুপুরে মাথাগরম চাকভাঙা মৌমাছিও।
কেউ কথা বলছে না- বাজছে না রিক্সার বেল
কিন্তু তবুও মাথার চারপাশে ভোঁভোঁ আওয়াজ হচ্ছে।
অতীত ভবিতব্য বলে কিছু নাই, ঠাহরে আসছে না তা,
সবই বর্তমান, ঘাম, নীরবতা, রোজ ঝিমিয়ে আসা
কেবল বসে যাওয়া হাত-পা,দূরের তারা, সিনেমার নায়ক।
কেউ কারো অধীন না, না কালোবাজারি কী পুলিশ
না,না আমি জানি না- মরে যাওয়া বলে কিছু আছে কী-না
কে মানুষ কে ফেরেশতা কে বা উপরালার পাহারাদার?
সব বন্ধ দোকানের কোণা, অন্ধকার ব্রিজের ঘুপচি
পিচ্ছিল সাইডওয়াক, ধুধু বারান্দা, নার্সের মেঘলা রোদ
কোথায় জমা পড়ে, সব বাতি কোনদিকে উড়ে যায়?
স্ট্রিট বেগার- এই আমার দুই হাত, চোখ দুটি এখানে,
মনে হয় পেটের পিছনে সবার মত আমারও পাকস্থলী
আত্মীয় কুটুম রক্তের ডিএনএ শ্যাওলাপড়া জুতা।
ওসব কিছু নাই আমার, মাঝে মাঝে ফুটপাতও উড়ে যায়
আমার সবকিছু ভারী লাগে- মাথা, বুক, পা, কপাল লণ্ডভণ্ড ক্ষুধা, অচিন ঝাঁকি, ঘন্টাধ্বনি- সবই ভারী লাগে।
রূপকথার ঢাল ও ঢালু
ভেসে যাবে মাথার খুলি, ছলকেই ভেসে যাবে
এমনও হয় আজকাল জন্মের আগেই ছিন্ন হয়
ভরাট মাথার কুঞ্জবনে কল্লোলিত ভূগোল।
দৌড়ে আসে হরিণ, বিনম্র দেহে অগুনতি বল্লম,
জলে ভাসে তার ওম, ইস্পাত ও স্মৃতির পালক,
অনাগত বোনের ফুলে ওঠা শঙ্কিত তলপেট
দীঘল মাঠের অঞ্চল জুড়ে বিনাশী বজ্রপাত
কে কার বুকের ছাতিমতলা ঢাকে শামুকের ঘ্রাণে?
ছায়া ছায়া দীঘল দুপুর, হাতে নির্ভরতার মৃণাল
কোন পথে যাবে সে, কোনদিকে নৈঃশব্দ্য শিকল?
মুছে গ্যাছে তফাৎ, দিগ্বিদিক, চিরচেনা সর্বনাম
আলিঙ্গনে গিলাপের নিচে স্থির কাহার বেয়নেট?
কে দেবে জবাব, কে পোহাবে সন্ধ্যার ধূলা কীর্তন?
চোখের সমুখে স্ফূরিত ঠাণ্ডা আগুনের জিভ
রূপকথার ভিতরে ঘোড়ার কেশর কুসুমে লাফায়
আমার চোখ ও হাত খোলা রাখো নীল ঢালুর দিকে
প্রাণে কেন ভোঁভোঁ শ্লোক আর শিকল দাও ঠোকে!
নিশিপাওয়া নিরিখ
মানুষ কার্যত বড্ড এলাইনমেন্ট পছন্দ করে
এমনিতে তার এই গুণ অতোটা বোঝা যায় না,
মনে হয় স্বভাবসিদ্ধভাবে সে কিছুটা এবড়োখেবড়ো
কখনও তার নাম দিই একলা দাঁড়িয়ে থাকা টিলা,
মর্যাদাবান ভাষা আর কথন ভঙ্গিমায় বলি এবসার্ডিটি।
সে উপশহরের গলিতে টঙ দোকানের পাশে বসে থাকে
আমরা ভাবি কালিবাউশ এক পানির উপর লাফায়
কী ধরে নিই- উড়াল দেয় সে পান খেয়ে ঠাঠা হাসে।
চোখের সামিয়ানার নিচে মেলে অর্জিত অট্টালিকা
হাওয়া সাঁতরে সবার বাড়ি বাড়ি নক্ষত্রের ধূলো ছিটায়।
ছিট কাপড়ে মঞ্চ সাজাতে নিজের আঙুল কাটে
বারান্দায় ঝুলতে থাকা ক্লেমাটিস আর মধুমঞ্জুরি
আক্ষেপে তুলতে ভোলে না কখনও ভুল হয় না তার
সবকিছুর যৌগে এলাইন করে সে সুনসান, ধাঁধাঘর।
মহুয়া গ্রাম
আমাদের লোহিত কণিকায়
মৃতদেহ লেপ্টে থাকে
আটকে থাকে চলে যাওয়া সতীর্থরা
দেহের গাছগাছালি পাড়ায়-
ওরা যায় না শ্মশানে ঢালুর দিকে,
না যায় অন্তিম কবরখানায়।
পড়শী এরা- জামগাছতলায় বসে
যারা ওমে ভেজা হাওয়া খায়।
তারা বুঝি বিরোই ধান-
তাদের চালে মাখানো খয়েরি কুঁড়ো
উড়ে না যায় কোথাও,
ক্ষুধার মত জুড়ে থাকে সাথে।
মার্গুলির ভাঙনের তোড়ে,
অশীতিপর কোমরের ব্যথা তারা
সাথে থাকে, দিনরাত নিরলে জ্বলে-
আমাদের মৃতরা মরে না,
তাদের মৃত বলো না-
তারা চোখের অতীত মহুয়ার গ্রাম।
আগুনের মুর্শিদ
তোমার দুই মিম্বর একাগ্র মাঝখানে ফিকে
গড়িয়ে পড়ে শুয়াপোকা উপত্যকার দিকে।
তোমারও তা বুঝবার ফুরসত নাই একরতি
এ তো নয় শুয়াপোকা যা একখণ্ড বরফকুচি।
আগুনের মোরাকাবায় বসে গলে গলে নাচে
পাখা ছিঁড়ে লেপ্টে যায় শুয়াপোকার ত্রাসে।
আটকে যায় শরীর আর প্রার্থনার মধুর চাকায়
মাঝরাতের ঊর্মিগোধূলি কোন বিলে ডুবে যায়।
জলসংক্রাম পিপাসী মাছের মুখে রঙিলা বারৈ
চাও কেন নদীর তলপেটে নীল কাসিদার হৈচৈ!
আগুনে মোক্ষম বসতি যার তার নামেই গড়ন
ছিপছিপে নাও জলের নামে বুনিয়া যায় ভাঙন।
মন উচাটনের বিচ্ছুরণ দুই মোরগাফুলের মোড়
সত্য তোমার শরীর জেনো সেজদা রঙিন ঘোর।
আমার পাপে তোমার পুণ্য তা জানে যে ওভিদ
দোঁহায় চলো দোজখেই নামি আগুনের মুর্শিদ।।