Published : 14 Dec 2017, 04:54 PM
জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘মাইলস’-এর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই মঞ্চে দেখা যাচ্ছে না দলের অন্যতম ভোকাল ও বেইজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদকে। শাফিনের বিরুদ্ধে ‘সেচ্ছাচারী মনোভাবের’ অভিযোগ তুললেন হামিন আহমেদসহ ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরা। অন্যদিকে শাফিন জানালেন, তিনি মুখ খুললে সমাজে ওরা মুখ দেখাতে পারবে না।
শাফিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেন তার বড়ভাই হামিন আহমেদ।
বুধবার রাতে গ্লিটজকে বলেন, “স্বেচ্ছাচারী মনোভাব থাকলে ব্যান্ড হয় না। ব্যান্ড একটা টীমওয়ার্ক। এখানে প্রত্যেকটা সদস্য গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি স্বেচ্ছাচারী ও অনিয়মিত হয় সে ব্যান্ড করতে পারে না। শাফিন নিজেই ব্যান্ডের সাথে তার দূরত্ব তৈরি করেছে। ব্যান্ডের কার্যক্রমের সাথে ইদানিং সে সেভাবে জড়িত থাকছে না। এবং কোনো ব্যাখাও সে দিচ্ছে না।”
হামিনের অভিযোগ, “সে (শাফিন) বিভিন্ন জায়গায় বলেছে তার জন্য মাইলস আজ এই জায়গায় এসেছে। সে না থাকলে মাইলস বেঁচে থাকত না। এই মনোভাব পোষণ করে সে মাইলসের সদস্য থাকতে পারে না। এই ব্যান্ডের জন্ম যে ফরিদ রশিদের হাত ধরে তিনিও চলে গেছেন। কিন্তু ব্যান্ড থেমে থাকেনি। মূলত মাইলস ব্যান্ড মানসিকতাকে লালন করে মাইলসের পথ চলে। যে এই মানসিকতাকে লালন করে না তাঁর কোনো জায়গা মাইলস-এ নেই।”
বিষয়টি নিয়ে শাফিন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়েছে ব্যান্ডদলের?
দলটির আরেক সদস্য মানাম আহমেদ গ্লিটজকে বলেন, “ব্যাপারটা নিয়ে আমরা নিজেরাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। কিছুদিন আগেই আমাদের একটা ট্যুর ছিল ইউএসএ ও ইউকেতে। তখনও কোনো ঝামেলা ছিল না। এরপর কানাডা ট্যুরের আগে সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের কাছে কিছু না বলে অন্যদের কাছে অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের যে ওয়ার্ক গ্রুপ ছিল সেখান থেকেও সে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে।”
শাফিন ব্যান্ডদল ছেড়ে গেলেও কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না বলে জানালেন মানাম।
তিনি বলেন, “কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। বিশেষ করে কোনো একজন ব্যক্তির জন্য একটা ব্যান্ড থেমে থাকে না। শাফিন যদি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য ব্যান্ড ছেড়ে যায় সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই। মাইলস থেমে থাকবে না, আগেও থাকেনি। এর আগেও শাফিন ব্যান্ড ছেড়ে গিয়েছিল তখন কিন্তু মাইলস বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু আমাদের বলে যেতে হবে কেন সে ব্যান্ড ছাড়ল।”
মানামের সঙ্গে সহমত পোষণ করলে ড্রামার জিয়াউর রহমান তুর্যও। তিনি বলেন, “কেউ একজন চলে গেলেই মাইলস ভেঙে যাবে না। এর আগেও মাইলসের অনেক সদস্য চলে গেছে। তাতে মাইলস ভাঙেনি। শাফিন ভাই চলে গেলেই মাইলস ভেঙে যাবে-এটা ঠিক নয়।”
তবে সবকিছু ছাপিয়ে আবারও শাফিনের মাইলসে ফেরার সুযোগ আছে বলে জানালেন হামিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “শাফিন যদি নিজেকে শুধরে নিয়ে ফিরে আসতে পারে তাহলে স্বাগতম। তবে এক্ষেত্রে গরজটা তার থাকতে হবে, ব্যান্ড করার মানসিকতাটা ফিরিয়ে আনতে হবে নিজ দায়িত্বে।”
যাকে ঘিরে এতো অভিযোগ সেই শাফিন আহমেদ কী বলছেন?
বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্লিটজকে তিনি বলেন, “আমি শাফিন আহমেদ বেঁচে থাকতে মাইলসের গায়ে কাদা লাগাতে দেব না। আমি চাই না দিনের পর দিন মাইলসকে নিয়ে বাজারে গসিপ ছড়াক। কারণ এটা ঐতিহ্যবাহী একটা ব্যান্ড। অনেকেই আমাকে বলেছে নতুন লাইনআপ নিয়ে শুরু করুন। আমি সেটা চাইলেই করতে পারতাম। কারণ সমস্ত পেপারস আমার পক্ষে কথা বলবে। সেক্ষেত্রে আইনি জটিলতাও থাকবে না। এক্ষেত্রেও আমি মাইলসের ঐতিহ্যের কথা ভেবেছি। মাইলস যে মানের সেই মানের মিউজিশিয়ান না হলে আমি মাইলস নিয়ে মুভ করবো না।”

শাফিন বলেন, “মাইলসের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে চাইলেই অভিযোগ করা যায়। কিন্তু কেন করবো? এতদিন যাদের সঙ্গে একসাথে মিউজিক করেছি তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে একজন মানুষ হিসেবে আমার বিবেকে বাধে। আমি মুখ খুললে সমাজে তারা মুখ দেখাতে পারবেনা। কাউকে সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে ছোটো করা শাফিন আহমেদের নীতিবিরুদ্ধ।
তাদের অনুরোধ করবো বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মাইলসকে ছোট না করার। তাদের এসমস্ত ভিত্তিহীন কথার প্রেক্ষিতে যখন মাইলসের গায়ে, শাফিন আহমেদের গায়ে আর কাদা মাখার জায়গা থাকবে না তখন কিন্তু আমি বাধ্য হব মুখ খুলতে।”