Published : 13 Feb 2026, 03:25 PM
নির্বাচনে ব্যাপক ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত ও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি।
এজেন্টদের ‘বের করে দেওয়া’, ভোটারদের ‘ভয়ভীতি’ প্রদর্শন, ব্যালট পেপার ‘ছিনতাই’ এবং ‘জালভোট’ দেওয়ার মতো একাধিক ‘অনিয়মের’ অভিযোগ তুলেছেন তুলি।
শুক্রবার দুপুরে মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের একটি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয় বলে বিএনপির এই প্রার্থীর নির্বাচনি দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকা-৮ আসনে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি।
দলটির পক্ষ থেকে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একাধিক সংবাদ সম্মেলন করে এই আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান।
ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস।
এরপর শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা-১৪ আসনের ভোট নিয়ে অভিযোগ করলেন ধানের শীষের প্রার্থী তুলি।
বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ থাকা এ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, যিনি ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত।
আরমানকে গুম করে দীর্ঘদিন গোপন কারাগারে বন্দি রাখার অভিযোগ রয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তুলি গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তুলি বলেন, “নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং জাল ভোট প্রদানের মতো একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে জনগণের ভোটাধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।”
বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় দাবি করে নির্বাচন চলাকালে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রার্থী।
তিনি বলেন, “অনেক কেন্দ্রে বিরোধী পক্ষের পোলিং এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না।
“আমরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং পুনঃভোট গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। জনগণের রায়কে বিকৃত করার যে অপচেষ্টা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।”
এক প্রশ্নের জবাবে তুলি বলেন, “আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে এবং প্রমাণাদি সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।”
এই আসনে দাঁড়িপাল্লার আরমান পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট। আর ধানের শীষের তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করা ‘বিএনপির বিদ্রোহী’ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩২৮ ভোট।