Published : 13 Jan 2026, 12:22 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মুন্সী রফিকুল আলম মজনুর সম্পত্তি সাত বছরে বেড়ে পৌনে পাঁচ গুণ হয়েছে। একই সময়ে প্রার্থীর ব্যবসায়ী স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ।
কোটিপতি দম্পতির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৮ কোটির বেশি। প্রার্থীর নামে মামলা রয়েছে ১৬৮টি। সাত বছর আগে ২০১৮ সালের মামলা ছিল ৫৭টি।
সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-২ আসনে এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করেছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। তারপরও দল তাকে যে তিনটি আসন থেকে প্রার্থী করেছিল তার একটি ফেনী-২ আসন। অন্য সব আসনের মত এই আসনেও একজন বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল বিএনপি।
এখানে বিএনপির হয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনুও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। খালেদা জিয়া প্রয়াত হওয়ার পর তিনিই এখন এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। সেবার খালেদা জিয়ার মামলা সংক্রান্ত কারণে প্রার্থী হতে না পারায় বিএনপি তাকে প্রার্থী করেছিল।
একাদশ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়ার রফিকুল ইসলাম মজনুর বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, রফিকুল আলম মজনুর স্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ সাত কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর শান্তিনগরে ছয় তলা বাড়ির একটি অংশে ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা, জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে ১০ হাজার ১৬২ বর্গফুটের দোকানের ১২ লাখ ৮ হাজার টাকা, ঢাকার শান্তিনগরে কনকর্ড মার্কেটের টুইন টাওয়ারে ১৯ দশমিক ৫৭ বর্গমিটারের দোকানে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ছাগলনাইয়া ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার জমি, রাজধানী পল্টনে চায়না টাউন মার্কেটে ৩৫০ দশমিক ৫৮ বর্গফুটের দোকানে ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩২০ টাকা, ঢাকার শান্তিনগরে ১ হাজার ৫১৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ১৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, দক্ষিণ শাহজাহানপুরে ১ হাজার ৫৪৭ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং একই এলাকায় ১ হাজার ৫১৪ বর্গফুটের আরেকটি ফ্ল্যাটে ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য সম্পদের মধ্যে ঢাকা ব্যাংকে জমা তিন লাখ, ইউসিবিএল ব্যাংকে এফডিআর ২০ লাখ, একটি নোহা মাইক্রো বাবদ ৩৪ লাখ, আসবাবপত্র বাবদ ৯০ হাজার, ১ লাখ মূল্যের ইলেকট্রিক পণ্য, নগদ অর্থ ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩২২, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জমা ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৬ টাকা বলা হয়েছে। হলফনামায় মূল্য উল্লেখ না করলেও রফিকুল আলম মজনুর ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, মজনুর স্ত্রী নাজমুন নাহার হাসির স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঢাকার জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়াম এলাকায় ১৭১ বর্গফুটের দোকান ২৪ লাখ ৮ হাজার টাকা, ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় ছয় তলা আবাসিক ভবন এক কোটি ১১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৬ টাকা, রাজধানীর পল্টনে ৮৫০ বর্গফুটের অফিস ৩৮ লাখ ৯ হাজার ১২০ টাকা এবং রাজধানীর আউটার সার্কুলার রোডের ১ হাজার ৯৫৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬০ টাকা বলা হয়েছে।
নাজমুন নাহার হাসির অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯২ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেড় লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। ৫০ ভরি স্বর্ণের কথা বললেও মূল্যের কথা বলা হয়নি।
হলফনামা অনুযায়ী, রফিকুল আলম মজনুর নামে শেয়ারের বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৩ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বাবদ ঋণ রয়েছে ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং গাড়ি ক্রয় বাবদ ঋণ দেখানো হয়েছে সাত লাখ ৪৫ হাজার ১১২ টাকা।
রফিকুল আলম মজনু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে এক কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৮৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। একই রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ বলা হয়েছে তিন কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৩ টাকা এবং প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা।
অন্যদিকে, স্ত্রী নাজমুন নাহার হাসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার নামে সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ৩৫ লাখ সাত হাজার ৯১৯ টাকা এবং প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ এক লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে রফিকুল আলম মজনুর সম্পদ ছিল এক কোটি ৬৩ লাখ দুই হাজার ৭৯৭ টাকা। স্ত্রীর ছিল তিন কোটি পাঁচ হাজার ১৪৬ টাকা।
সাত বছরের ব্যবধানে রফিকুল আলম মজনুর সম্পদ বেড়েছে পৌনে পাঁচ গুণ। তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ।
মুন্সী রফিকুল আলম মজনু ১৯৭২ সালের ১ মার্চ ফেনী সদর উপজেলার ইজ্জতপুরের সাতবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর শান্তিনগরের শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় বসবাস করছেন।
রফিকুল আলম পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তিনি মের্সাস ইমা এন্টারপ্রাইজ, মা এন্টারপ্রাইজ ও মায়াজ ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্ত্বাধিকারী। তার স্ত্রীর পেশাও ব্যবসা; তিনি মাশফী ইলেকট্রনিক্সের স্বত্ত্বাধিকারী।
রফিকুল আলম মজনুর ২০০৬ সালের ২০ অগাস্ট থেকে একটি পিস্তল, একটি শটগান রয়েছে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী, ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ১০ হাজার ৭২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১২ হাজার ৮৫০ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৯০। এখানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন ভোটার রয়েছে।