Published : 22 Jan 2026, 04:02 PM
বিএনপি সরকারে গেলে নারীর যথাযথ ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমাদের দেশে নারীরা নানাভাবে বঞ্চিত। এ ছাড়া সামাজিকভাবেও তাদের নানা ধরনের বাধ্যবাধকতা আছে। তাই নারীর যথাযথ ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে আমাদের পরিকল্পনা আছে।
“বিএনপি যে ফ্যামিলি কার্ড সবাইকে দেওয়ার কথা বলছে, এটা দেওয়া হবে পরিবারের প্রধান নারীকে; যিনি সংসার চালান। এতে মানসিকভাবে ওই নারী শক্তিশালী হবেন, পরিবারে তার সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে।”
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ১৯টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এখন প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদেশে যান। এর মধ্যে অন্তত সাত লাখই অদক্ষ। তাই তার পরিশ্রম দেশের কিংবা তার নিজের সেভাবে কোনো কাজে আসছে না। ফলে বিদেশগামীদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ হিসেবে তৈরি করতে হবে।”
তরুণ জনগোষ্ঠীর ‘দ্য প্ল্যান’ শীর্ষক এ মতবিনিময় এক ঘণ্টা চলে। পরে তিনি নগরের সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে হাজারো মানুষ তারেক রহমানকে অভিবাদন জানান।

তিনি বলেন, “অনেকে যে দেশে যাচ্ছেন, তার সেসব দেশের সংস্কৃতি, ভাষা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। তাই কোনো দেশে যাওয়ার আগে সেখানকার সংস্কৃতি, ভাষা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। তার দল সরকার গঠন করলে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“জনশক্তি নেওয়া দেশগুলো আগামী ১০ থেকে ১২ বছরে কোন বিষয়ে দক্ষ লোক নেবে, সেটা গবেষণা করে বের করে সরকারের পক্ষ হতে সে অনুযায়ী বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুরবস্থা ও ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি কিছুটা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি সিলেটে শেষ এসেছিলাম ২০০৫ সালে। সুনামগঞ্জে বন্যা ছিল, ত্রাণ দেওয়ার কাজে আমি এসেছিলাম। তখন আমার আসতে সময় লেগেছিল সাড়ে চার বা পাঁচ ঘণ্টা। এই মুহূর্তে ঢাকা থেকে আসতে বা সিলেট থেকে যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।
“আপনারা সিলেটের মানুষ সবাই। অনেকেরই হয়তবা লন্ডন যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আপনি যতক্ষণে গাড়িতে করে সিলেট থেকে ঢাকায় যাবেন; তার আগে বিমানে বোধ হয় লন্ডন চলে যেতে পারবেন।”
এ সময় তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তার দল সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদানসহ মানুষের নানা সুবিধা নিশ্চিত করবে।
তিনি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতসহ নানা বিষয় নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা উপস্থাপন করেন। মানুষের অসুখ-বিসুখ কমিয়ে আনতে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও বিএনপি নজর দেবে বলে জানান তারেক রহমান।

পরিবেশ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “ঢাকায় কমবেশি প্রতিদিন সাত হাজার টন আবর্জনা জমা হয়। ঢাকায় যত্রতত্র ময়লা পড়ে আছে। এসব থেকে জীবাণু শরীরে যাচ্ছে। এটা হতে থাকলে ১০ থেকে ১২ বছর পর দেখা যাবে, মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। ময়লা তো হবেই, সেটা কী করে কমানো যায়, এ সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
একটি দেশে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজনীয়তার কথা বলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তার প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ কোটি গাছ লাগাবে।
এ সময় তরুণদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকার আইটি পার্কের নামে বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করে ফেলে রেখেছে। আমরা এটাকে ডেভেলপ করব। আমরা আপনাদের (তরুণদের) প্রপার ওয়ার্কিং স্পেস দেব।”
সভায় তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান আকাশপথে বুধবার রাত ৮টার দিকে সিলেটে আসেন। পরে তিনি হয়রত শাহজালাল (রহ.) ও হয়রত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
পাশাপাশি তিনি হয়রত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন।
পরে তারেক রহমান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমানের মত দেশে পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার প্রত্যয় জানিয়ে ধানের শীষে ভোট চান।