Published : 17 Feb 2026, 09:03 AM
শপথ নিতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের গেইটে তাদের গাড়ি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির শপথই আগে পড়ানো হবে।

এদিকে শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংসদ ও তার চারপাশের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা হচ্ছে।
টানা তিনটি সংসদ অর্থাৎ ১৫ বছর পর বিএনপির নেতারা সংসদ ভবনের প্রবেশ করছেন। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের দুটি নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও দুপুরে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বয়কট করে বিএনপি।
বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “নতুন সদস্য হিসেবে সংসদ ভবনে পা রাখলাম… এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। একটা অন্যরকম অনুভূতি মনে জাগরিত হচ্ছে।
“আল্লাহর কাছে শোকর গোছর করি এজন্য যে, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি তার রহমতে। ধানের শীষের বিজয়ে বাংলাদেশ নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যাবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”
সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ কাছে শোকর গোছার করি, দেড় যুগ পর ধানের শীষের এই সংসদে তারেক রহমানের নেতৃতে শপথ নিতে আমরা যাচ্ছি। দেড় যুগ আগে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদে এসেছিলাম।
“আজকের দিনটি আমরা যারা সংসদের সদস্য হয়ে নির্বাচিত হয়েছি, তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”

দেশের আইনসভার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনের শপথ নেন আগের সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে। তবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই। সে কারণে নতুন এমপিরা এবার শপথ নেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর।
ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে কারণে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে শপথ নিতে হবে।
সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দুই শপথ ‘পর্যায়ক্রমে’ হবে বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।