Published : 13 Feb 2026, 10:36 PM
ভোটের ফলাফলে ‘কারচুপি করে’ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কয়েকজন প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বিজয়ী দলের লোকজন তাদের জোটের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে ‘হামলা ও অগ্নিসংযোগ’ করছে অভিযোগ করে তিনি এখনি তিনি তা থামানোর দাবিও করেছেন।
একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘কারচুপির’ প্রতিকার না পেলে ‘নিজেদের পথ’ ধরার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদেরকে যদি বাধ্য করা হয় তাহলে রাজপথেও নামব।”
ভোটের পরদিন শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভোটে ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও কথা বলেন। তবে তারা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেননি।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পায়। ২০৯ আসনে বিজয়ী হন দলটির প্রার্থীরা। এর বিপরীতে এক সময় তাদের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয় পান ৬৮ আসনে। ভোটে ১১ দলের জোটে তাদের শরিকরা জিতেছেন ৯টি আসনে।
ভোটের পরদিন শুক্রবার রাতে জোটের ব্ঠৈক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা চাইলেও যদি তারা ইতিবাচক রাজনীতি না চান তাহলে আমরা জোর করে ইতিবাচক রাজনীতি করতে পারবো না। নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যেভাবেই পাক না কেন এ নিয়ে আমাদের যথেষ্ট আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে।
“আমাদেরকে যদি বাধ্য করা হয় তাহলে রাজপথেও আমরা নামবো। বেশ কিছু জায়গায় ফলাফল প্রচার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। দুই-চারঘণ্টা হঠাৎ লাপাত্তা। প্রথমে দেখা গেল ১১ দলীয় প্রার্থী এগিয়ে আছেন হাজার হাজার ভোটে। কিন্তু এরপরে হঠাৎ নাই। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্টশিটে ঘষামাজা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা গতকাল ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী জানানোর পরও আজকে বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কর্মী-সমর্থক, এজেন্ট, ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটাতো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা।
“এখন এগুলো কীসের আলামত। এখনি বন্ধ করতে হবে। না হলে আমরা বাধ্য হব যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “বিনয়ের সাথে বলব এসব অপকর্ম এখুনি বন্ধ করেন। আপনাদের সদিচ্ছা দেখতে চাই। নিশ্চই আপনাদের নেতৃত্ব আছে, কমান্ড আছে। আমরা তার প্রয়োগ দেখতে চাই। আমরা এসবের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এগুলোর প্রতিকার চাই।”
কিছু আসনে ‘দ্বৈতনীতি’ অবলম্বনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ঢাকা- ৮ এ কেন্দ্র দখল করে এক নেতার আপনজনের নেতৃত্বে যা হয়েছে তা দেখেছে সবাই। নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ওই আসনে যে কারণ থাকার পরেও এক প্রার্থীর ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে (ঢাকা- ১৩ তে) মামুনুল হক সাহেবের সঙ্গে সেই একই ঘটনা ঘটলেও সেটা গ্রহণ করা হয়নি। এক দেশে কী দুই আইন চলবে। নির্বাচন কমিশন কী একেক জায়গায় একেক আইনের প্রয়োগ করবে?
“স্ব স্ব আসনে যাদের ওপরে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি প্রতিকার না পাই তাহলে এখানেও আমরা বাধ্য হব আমাদের পথ ধরতে। আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা ইনসাফ করবে। না হলে দায় তাদের নিতে হবে।
“নির্বাচনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জোরজবরদস্তি, কালো টাকা যা হয়েছে হয়েছে এটার প্রতিকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে চাইব।”
জামায়াতের আমির বলেন, “৫৯ জনের ঋণের দায় থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্বাচনেযোগ্য ঘোষণা করা হয়। দুর্নীতির সঙ্গে আমাদের কোনো আপোস নেই। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অনুরোধ জানাবো আরপিও যাদের কাভার করে না তাদের ফল স্থগিত করে এর সুরাহা করে তারপরে আপনারা আগান।
“যারা ঋণ খেলাপি হয়েছেন এটা একরকমের অপরাধ। যাদেরকে আরপিওর অধীনে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তারা সেই সুযোগ নেননি। অনেকে ঋণ খেলাপির বিষয়টি গোপন করেছেন। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সে বিষয়ে তারা কিছু করেনি। আমরা এসব বিষয়ে পদক্ষেপ দেখতে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। এই নির্বাচনে সু্পষ্টভাবে ফলে কারচুপি হয়েছে। ভোট একটা পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল। যখন ফল ঘোষণার সময় হয়েছিল তখন সুনির্দিষ্টভাবে অনেকগুলো আসন লক্ষ্য করে সেটার ফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র দখল করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
“শেষ সময়ে ১১ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারিয়ে ক্ষমতা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন কমিশনে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগ জানাবেন প্রার্থীরা। এবং নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে আমাদের চূড়ান্ত অবস্থান।”
তাদের কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা হওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনের পরদিনই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাড়িঘরে হামলা, হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করেছে তাদের কাছে দেশের জনগণ কী করে নিরাপদে থাকবে সে প্রশ্ন উঠেছে।”
এসব নিয়ে ১১ দল রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তুলে ধরেন নাহিদ।
এরপর মামুনুল হক বলেন, “ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট যে ভোট যেভাবে গ্রহণ করা হয়েছে গণনা তার উল্টোভাবে করা হয়েছে। সেখানে জনরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে।”