ভোটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এখনো ‘সম্ভব’: বি-স্ক্যান
“একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের কার্যকর চাবিকাঠি নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে।”
আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতায় বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি দাবি করে বেসরকারি সংস্থা বি-স্ক্যান মনে করে, উদ্যোগ নিলে নির্বাচনের আগে তা ‘সম্ভব’।
মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বি-স্ক্যান বাংলাদেশের মুখপাত্র নুসরাত জাহান বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) উদ্যোগ নিলে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই ভোটের দিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভুক্তি ‘বাড়ানো সম্ভব’।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি আগে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন (UNCRPD) অনুমোদন করলেও এখনো সাংবিধানিক ও নির্বাচনি কাঠামোর ভেতরে সেই অঙ্গীকারগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও জনজীবনে সমান ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
“রাজনৈতিক ও নির্বাচনি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বতন্ত্র অধিকারভোগী (right-holders) হিসেবে সুস্পষ্ট স্বীকৃতি দিতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় আরও সংস্কার প্রয়োজন।”
পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে কোটা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশও করেছেন নুসরাত জাহান।
তিনি বলেন, “একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের কার্যকর চাবিকাঠি নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে। সময় সীমিত হলেও নির্বাচন-পূর্ব সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
“নির্বাচন কমিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আশা করি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
‘ভোটে প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নারী-নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বি-স্ক্যান বাংলাদেশের মুখপাত্র নুসরাত জাহান কয়েকটি সুপারিশ উত্থাপন করেন। এসব সুপারিশ হল-
>> লক্ষ্যভিত্তিক ভোটার তথ্য ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।
>> ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহায়তাপ্রাপ্ত ভোটদান পদ্ধতি বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে।
>> প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।
