Published : 12 Feb 2026, 09:34 AM
ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
রিকশা প্রতীকের এই প্রার্থী সকাল ৮টায় মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে পৌঁছান। ভেতরে দায়িত্বরতদের একজন তাকে দ্বিতীয় তলায় ভোট কক্ষে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।
দ্বিতীয় তলায় গেলে সেখানে আরেকজন তাকে বলেন, তার ভোট তৃতীয় তলার একটি কক্ষে দিতে হবে। তৃতীয় তলায় যাওয়ার পর তাকে আবার দ্বিতীয় তলার কক্ষে যাওয়ার জন্য বলা হয়।
এভাবে অন্তত আট মিনিট পার হওয়ার পর জানা যায়, প্রথমে যে ভোটকক্ষে তিনি এসেছিলেন, সেখানেই তার ভোট দিতে হবে। পরে ওই কক্ষেই ভোট দেন মামুনুল হক।
ভোট দেওয়ার এই 'বিড়ম্বনাকে' মামুনুল হক অবশ্য বলছেন, 'সামান্য ভুল বোঝাবোঝি'।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ভোট কক্ষের সংখ্যার কারণে একটু হয়ত ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে। এটা খুব একটা সমস্যা না।"
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মামুনুল হক বলেন, তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কোনো রকম ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা না ঘটলে ভোটের ফলাফল যা-ই ঘটুক, তিনি তা মেনে নেবেন।
মামুনুল হকের ভাষ্য, "কৃত্রিম কোনো সংকট যদি না তৈরি করা হয়, স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ যদি হয়। জনগণ যদি স্বতস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে ভোটের ফলাফল মেনে নেব এবং তা সবারই মেনে নেওয়া উচিত।"
ঢাকা ১৩ আসনে রাত থেকেই ‘কিছু অনিয়মের’ খবর পেয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, "সে বিষয়গুলো আমরা নিজেরা যাচাই করার সুযোগ পাইনি। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।"
এদিকে ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি জুয়েল রানা সাংবাদিকদের বলেন, "নিরাপত্তাজনিত কোনো সংকট নেই।"
ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও জাতীয় নির্বাচনের ভোট এবং গণভোট একসঙ্গে দেওয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানান কাদেরাবাদ হাউজিং এর বাসিন্দা আব্দুল মজিদ। তিনি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে কর্মরত।
ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে মজিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি, এটাই ভালো লাগছে। তবে সময় একটু বেশি লাগছে।"
কত সময় লাগল জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আনুমানিক ১৫ মিনিটের মত লাগছে।"
আব্দুল হামিদ নামে আরেকজন ভোটার অবশ্য বলেছেন, তার লেগেছে ৫ মিনিট।
বছিলায় বসবাস করলেও আব্দুল হামিদ মোহাম্মদপুর এলাকার ভোটার। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আব্দুল হামিদ বলেন, "দুইটা ভোট একসঙ্গে দেওয়ার কারণে একটু সময় লেগেছে। তবে ভোট দিতে কোনো সমস্যা নাই।"
শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটারদের ভিড় খুব বেশি ছিল না। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার সংখ্যাও বাড়বে বলে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।