Published : 02 Feb 2026, 01:38 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বাগেরহাটের চারটি আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে।
এর কারণ বিএনপিকে তিনটি আসনে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে সামলাতে হবে।
অন্যদিকে পুরনো আসন পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নতুন আসন কব্জা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন বাদ দিলে আগের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর ফলাফল বলছে, একটিতে আওয়ামী লীগ নিরষ্কুশ, দুটিতে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে আসছে।
এর মধ্যে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের জয়ের ইতিহাস আছে। বাগেরহাট-৩ আসনে বেশ কয়েকবার তারা দ্বিতীয় হয়েছে।
এ ছাড়া বাগেরহাট-২ আসনেও জামায়াত মূল লড়াইয়ে আছে। এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।

বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সেই পরিবেশকে আরও অনুকূল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম একাই তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠে থাকলে হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে।
তবে বিএনপি তা মানতে নারাজ। দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি চারটি আসনেই জয়লাভ করবে।
অন্যদিকে জেলা জামায়াত বলছে, এখানে তাদের একাধিকাবার জয়ের ইতিহাস আছে, যা দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছে।
বাগেরহাটে চার আসনে বিএনপি থেকে যে চারজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তারা সবাই নতুন মুখ।
আর জামায়াতের চার প্রার্থীর মধ্যে দুজন নতুন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, মুসলিম লীগসহ মোট ২৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত করায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থাকছে দলটির নৌকা প্রতীক।

বাগেরহাট-১: ‘নির্ধারকের ভূমিকায়’ সনাতনীদের ভোট
চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট এই তিন উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি মনে করা হয়। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন বাদ দিলে এ আসনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসছে। এখানে কয়েকবার ভোট করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপি থেকে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মশিউর রহমান খান।
মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. শেখ মাসুদ রানা, জাতীয় পার্টি স ম গোলাম সরোয়ার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলর আব্দুর সবুর শেখ, মুসলিম লীগের এম ডি শামসুল হক এবং আমার বাংলাদেশ-এবি পাটির মো. আমিনুল ইসলাম।
বাগেরহাট-১ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন। এই আসনে হিজড়া ভোটার মোট দুজন।
এবারের নির্বাচনেও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভোট এখানে জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
সেটা মাথায় রেখে প্রথমবারের মতো বিএনপি এবার সনাতন ধর্মাবলম্বী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে মনোনয়ন দিয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট টানার কৌশল হাতে নিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপির প্রার্থী সনাতনী ভোটারদের মন কতটা জয় করতে পারবেন তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বাগেরহাট-২: ‘বিদ্রোহে কুপোকাত’ বিএনপি
সদর ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন, যেখানে বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে আসছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় জামায়াত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়া বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য। তাই এই আসনটিতে এবার বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র- ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
বিএনপি এখানে মনোনয়ন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে। জামায়াতের প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম, ইসলামী আন্দোলনের শেখ আতিয়ার রহমান।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে সেলিম বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে নেন।
গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আবার বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করেন। দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের অকুণ্ঠ সমর্থন আর সাবেক বিএনপি নেতা সেলিম তার সময়ে উন্নয়নের জয়রথ দিয়ে ভোটের বৈতরণি পার হতে মরিয়া। ফলে বিএনপির ‘দুজন প্রার্থী’ হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন এখানকার ভোটাররা।
বাগেরহাট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজার নয়জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন। এই আসনে হিজড়া ভোটার মোট পাঁচজন।
বাগেরহাট-৩: এবার প্রথম হতে চায় জামায়াত
মোংলা ও রামপাল উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসনে বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ঐক্য ছিল। তখন এই আসনে জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছিল। এখানে জামায়াত-বিএনপি জোটের সঙ্গে লড়াই হত আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের ও তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারের।
বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত এবার আলাদা জোট করে প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকায় নেমেছে। যে কারণে এ আসনে দীর্ঘদিন পর বিএনপির প্রার্থী দেখা যাচ্ছে।
এখানে বিএনপি প্রার্থী করেছে শেখ ফরিদুল ইসলামকে। কিন্তু এখানেও বিএনপির পথে দাঁড়িয়েছেন দলের সাবেক এমপি সেলিম। জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ ছাড়াও এখানে আছেন হাতাপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির তারা মার্কার মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।
ভোটাররা বলছেন, জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর লড়াই হবে এই আসনে। তবে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে সাবেক বিএনপি নেতা সেলিমের ভূমিকায় বিপদে পড়তে পারেন বিএনপি প্রার্থী।
অতীত নির্বাচনের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, জোট রাজনীতির কারণে বিএনপি সবসময় বাগেরহাট-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসন জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিয়েছে। যে কারণে, গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে এখানে জামায়াত প্রার্থী দ্বিতীয় হয়েছে। এবার তারা প্রথম হওয়ার জন্য লড়ছে।
বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন। এই আসনে হিজড়া ভোটার চারজন।

বাগেরহাট-৪: খাতা খুলতে চায় বিএনপি
মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে জামায়াতের। এরশাদের স্বৈরশাসনের পতনের পর পঞ্চম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতের আবদুস সাত্তার আকন।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি থেকে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে, জামায়াত ইসলামীর মো. আব্দুল আলীম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. আব্দুল লতিফ খান, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রী এবং জেলা বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় জামায়াত আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে লড়ছে।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন। আর হিজড়া ভোটার আছেন তিনজন।
যা বলছে জামায়াত
বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রেজাউল করিম বলেন, “চারটি আসনে আমরাই প্রথম মনোনয়ন দিয়েছি প্রার্থীদের। তারা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থেকে তৃণমূলে কাজ করছেন। একাধিকাবার জয়ের ইতিহাস এখানে আমাদের আছে। সেটা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছে। ফলে মানুষ এখানে জামায়াত সম্পর্কে ভাল জানে।”
এবার বাগেরহাটের চারটি আসন নিয়েই জামায়াত আশাবাদী বলে জানান জেলা আমির।

‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে যা বলছে বিএনপি
বিএনপির একজন পুরনো সমর্থক বলছিলেন, “বাগেরহাটের চারটি আসনেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ রয়েছে। এতে সাধারণ ভোটাররা কিছুটা দ্বিধা-বিভক্ত। অথচ এই প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন ঘোষণার আগে বলেছিলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তারা সেই প্রার্থীর জন্য মাঠে কাজ করবেন। কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
“ফলে একেকজন প্রার্থীর অনুসারীরা তার দিকে ঝুঁকে ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এতে ধানের শীষ বেশ ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। এমনটা চলতে থাকলে তা দলের জন্য ভাল কিছু হবে না বলে ধারণা করছি।”
তবে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ বলেন, “বাগেরহাটের চারটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থক ঐক্যবদ্ধ। আমাদের ভেতরে কোনো বিরোধ নেই। আমরা আসন ভেদে প্রার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা নির্বাচনি দল গঠন করে কাজ করছি।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলে এলাকার উন্নয়ন হয় দাবি করে তিনি বলেন, “অবহেলিত বাগেরহাটে আগামী দিনে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছে বিএনপি।”
সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ‘বিদ্রোহী’ হয়ে তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন, ভোটের মাঠে এর কতটা প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেলিম বিএনপিতে ছিলেন এটা ঠিক। তবে তিনি এখন বিএনপির কেউ নন। ব্যক্তি সেলিম আর বিএনপির সেলিম এক নয়।
“আপনাকে মাথায় রাখতে হবে এটি জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের দলীয় প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুতরাং, এই ভোটে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না। ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হবে।”
‘আমি নির্বাচন না করলে অন্য দল জিতে যাবে’
তবে ব্যবসায়ী সেলিম দাবি করেন, “যেসব প্রার্থীদের বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে হয়ত তাদের ভাল মনে করেছে। এটি দলের সিদ্ধান্ত। তবে যারা বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাদের কেউ ভোটে বাগেরহাটের একটি আসনেও জিততে পারবেন না।
“আমার দলকে (বিএনপি) আমি জানাতে চাচ্ছি, দল আমাকে চায় কি চায় না। এই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন করছি। দল দেখবে তারা যেসব প্রার্থী দিয়েছে তারা আসন্ন নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ভোটে পরাজিত হবে। আমি যদি এখানে নির্বাচন না করি তাহলে অন্য দল এই আসনগুলোয় জিতে যাবে।”