Published : 04 Feb 2026, 12:33 AM
শ্রেণিকক্ষের পাঠ চুকানোর আগেই সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন ঢাকার এক শিক্ষার্থী। প্রার্থী হওয়ার জন্য বয়সের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেই ২৫ বছর তার পূর্ণ হয়েছে মাস চারেক আগে।
ফাতেমা আক্তার মুনিয়া নামের এ তরুণী ঢাকার সবচেয়ে জনবহুল আসন ঢাকা-১৩ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হয়ে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার একাংশ নিয়ে এ আসনটি গঠিত। মুনিয়া মোহাম্মদপুরের আলহাজ্ব মকবুল হোসেন কলেজের ইংরেজি বিভাগে পড়ছেন।
শ্রেণিকক্ষ থেকে নির্বাচনি মাঠে নামার অভিজ্ঞতা কেমন, এমন প্রশ্নের উত্তরে মুনিয়া বলছিলেন, “হ্যাঁ, আমাকে অনেকে বলেছে, আমি সবচেয়ে কমবয়সি প্রার্থী। তবে সেটা আমাকে ভোটের মাঠে আরও ভালো সাড়া জুগিয়েছে।
“আমি মনে করি দেশকে বদলাতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সেখানে ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন সেক্টরের মানুষকে থাকতে হবে।”

স্নাতক চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা স্টুডেন্টরা যারা আছি, তারাই হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরাই ফ্যাসিবাদের পতন গঠিয়েছি, যেখানে সর্বসাধারণ যুক্ত হয়েছিলেন। তাই মানুষ বলছে, এবার না হলেও একদিন না একদিন সফল হব।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই গ্রামে ২০০০ সালের ৯ অক্টোবরে জন্ম মুনিয়ার। বাবা শাহজাহান আহম্মেদ, মায়ের নাম গুলশানারা বেগম।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মুনিয়া অর্ধ যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তার ভাষ্য, “আমার বাবা-মা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। আমার বাবা-মা সাধারণ মানুষ।”
মুনিয়া বলতে থাকেন, “আমি ২০১৭ সাল থেকে সুন্নী আন্দোলন ও পরে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাথে যুক্ত ছিলাম।
“আমি সেখানে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সেখান থেকে আমার মনে হয়েছে এ দেশের জন্য কাজ করা উচিত।”
ফাতেমা আক্তার মুনিয়া এবার যে আসনে প্রার্থী হয়েছেন, সেখানে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮হাজার ৭৯১ জন। আসনটিতে রাজনৈতিক দলের সাতজন এবং স্বতন্ত্র দুজন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেবল মুনিয়াই নারী প্রার্থী।
ভোটের মাঠে কেমন সাড়া পাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “গত মাসের ২২ তারিখ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে; সেদিন থেকে আমি প্রচারণায় নেমেছি। আমি নিজে সরাসরি আছি।
“আমরা তো নতুন রাজনৈতিক দল ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ’ নামে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। তখন দলটি নিয়ে মানুষ জানতে চাচ্ছেন। সেখানে আমরা ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ’ সম্পর্কে বলি যে, আমরা মানবতাভিত্তিক রাজনৈতিক দল।”

আপেল প্রতীকের প্রার্থী মুনিয়া বলেন, “আমরা ধর্ম-দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে মানবিক সমাজ, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবার প্রতিনিধি।
“আমরা ধর্মভিত্তিকও না, আবার জাতীয়তাবাদী বলে বিভক্ত করার পক্ষেও না। তাই আমাদের দলটাকে মানুষ খুব বেশি পছন্দ করছে।”
ঢাকা-১৩ আসনে এবার ভোটের মাঠে নয়জন থাকলেও ভোটাররা এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ও জামায়াত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের মধ্যে।
তাদের বাইরে অন্য প্রার্থীরা হলেন-গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের মো. খালেকুজ্জামান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা ও শেখ মো. রবিউল ইসলাম।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে মুনিয়ার হলফনামায়।
এবারের নির্বাচনে একজন প্রার্থীর ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে। সেখানে এক প্রার্থী ব্যয় করতে পারবেন প্রায় ৮০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
তবে মুনিয়া তার ব্যয়ের সম্ভাব্য বিবরণীতে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, শিক্ষার্থী হওয়ায় তার কোনো নিজস্ব আয় নেই। তবে নির্বাচনে বাবার কৃষি আয় থেকে পেয়েছেন দুই লাখ টাকা এবং দুই আত্মীয়র কাছে পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকা। আর নিজের সঞ্চিত অর্থ থেকে বাকি ৭৫ হাজার টাকা খরচ করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন স্নাতক পড়ুয়া এ শিক্ষার্থী।
এতো কম টাকায় প্রচার চালাতে অসুবিধে হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মুনিয়া বললেন, “আপনারা তো দেখছেন, আমার আসনে সবাই অনেক টাকা খরচ করছেন। মামুনুল হক, ববি হাজ্জাজসহ সবাই তাদের বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ভরে ফেলেছেন।
“সেখানে আমার তো এতো টাকা নাই। আমি সবার কাছে যাচ্ছি। আর শিক্ষার্থী হিসেবে ৩ লাখ টাকা অনেক টাকা।”