০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে প্রতিশ্রুতি ভেঙে ইরানের কেশম দ্বীপে ট্রাম্পের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনও হামলা চালানো হবে না বলে এর আগে ঘোষণা দিলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রাম্প প্রশাসন অবস্থান বদল করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে প্রতিশ্রুতি ভেঙে ইরানের কেশম দ্বীপে ট্রাম্পের হামলা

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 06:15 PM

Updated : 03 Nov 2026, 06:15 PM

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরু হওয়ার ঠিক আগে ইরানের হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনও হামলা চালানো হবে না বলে এর আগে ঘোষণা দিলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থান বদল করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এই হামলাকে ‘ত্মরক্ষামূলক’ সামরিক হামলা বলেই অভিহিত করছেন।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথমে এই হামলার খবর প্রকাশ করেছে।

সেখানে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, এটি কোনও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বা বড় সামরিক অভিযান নয়, বরং ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা সীমিত করার একটি তাৎক্ষণিক কৌশলগত পদক্ষেপ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই এই হামলা তাৎপর্যপূর্ণ। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এই হামলার খবর প্রকাশ্যে এল।

মার্কিন ভোটারদের কাছে ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছিল। তাই ট্রাম্প নির্বাচন পর্যন্ত কোনও হামলা না করার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এই হামলার মধ্য দিয়ে তার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ইরনা সোমবার কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটার খবর দিয়েছে। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আকাশ দুটি বিমানকে চক্কর কাটতে দেখেছেন তারা। যদিও এই হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি পেন্টাগন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর দাবি, ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেেই ইরানে সীমিত মাত্রার একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদেরকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক অভিযান ফের শুরু করার কোনও ইঙ্গিত যাতে না যায়, সেকারণেই হামলাগুলোর পরিসর ছোট রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে অবস্থিত কেশম দ্বীপে ইরানের একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, একটি নৌঘাঁটি এবং একটি প্রধান পানি শোধন (লবণাক্ততা দূরীকরণ) প্ল্যান্ট রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে এই দ্বীপটি দখল করা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার সময় কেশম দ্বীপ ছাড়াও বন্দর আব্বাস ও হেঙ্গাম দ্বীপের কাছাকাছি প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সামরিক পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন নির্বাচনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।