সরকারের ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নীতির বিরুদ্ধে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ৮ শতাধিক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে তাদের দেশগুলোর সরকারের নীতি ‘আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 03:59 PM
Updated : 2 Feb 2024, 03:59 PM

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের ৮শ’ জনের বেশি কর্মকর্তা ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে তাদের নিজ নিজ দেশের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি সই করেছেন। তাতে সরকারের এই নীতি ‘আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রশাসন ‘এ শতাব্দীর সবচেয়ে বাজে একটি মানবিক বিপর্যয়ের’ ঘটনায় সহযোগী হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে। অথচ তারা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞ পরামর্শকে আমলে নিচ্ছে না।

বিবিসি পশ্চিমা কর্মকর্তাদের এই বিবৃতির একটি কপি হাতে পেয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন প্রতিবাদ ইসরায়েলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা মিত্রদেশের সরকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ভিন্নমতেরই সর্বসাম্প্রতিক লক্ষণ।

বিবৃতিতে সই করা এক কর্মকর্তা, যার একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করার ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে, বিবিসি-কে তিনি বলেছেন, সরকার তাদের উদ্বেগ বিবেচনাতেই নেয়নি।

তিনি বলেন, “যারা ওই অঞ্চল এবং এর গতিপ্রকৃতিকে বোঝেন, তাদের কণ্ঠ শোনা হয়নি।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, “এখানে সত্যিই যে বিষয়টি ভিন্ন, সেটি হচ্ছে- আমরা কোনওকিছু প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছি তা নয়, বরং আমরা সক্রিয়ভাবে দুস্কর্মে জড়িত হচ্ছি। আমি যতদূর মনে করতে পারি, এটি অন্য যে কোনও পরিস্থিতি থেকে মৌলিকভাবে আলাদা।”

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি-সহ ১১টি ইউরোপীয় দেশের সরকারি কর্মকর্তারা সই করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, “গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলার কোনও সীমা নেই। এর ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ঠেকানো সম্ভব ছিল। তাছাড়াও, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য বন্ধ করে রাখায়... গাজার আরও হাজার হাজার অধিবাসী অনাহার এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

“ফলে আমাদের দেশগুলোর সরকারের নীতি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ এমনকী জাতিগত শুদ্ধি অভিযান কিংবা গণহত্যার সামিল হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি এখানে আছে।”