ইইউ’র শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ করল বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া

গত বছর স্থল ও সাগরপথে ইউরোপের এই অবাধ ভ্রমণ অঞ্চলে আকাশ ও সাগরপথে যোগ দিতে চুক্তিতে পৌঁছেছিল বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া।

রয়টার্স
Published : 31 March 2024, 01:56 PM
Updated : 31 March 2024, 01:56 PM

বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া এবার আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউরোপের পাসপোর্টমুক্ত অবাধ চলাচলের শেনজেন অঞ্চলে আংশিকভাবে প্রবেশ করেছে।

ফলে রোববার থেকেই বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া ও রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের বিমানবন্দরগুলোতে ইইউ দেশগুলো থেকে আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের জন্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে পাসপোর্ট চেকপয়েন্ট।

গত বছর স্থল ও সাগরপথে ইউরোপের এই অবাধ ভ্রমণ অঞ্চলে যোগ দিতে চুক্তিতে পৌঁছেছিল বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া। অস্ট্রিয়া স্থল ক্রসিংসহ শেনজেন অঞ্চলে দেশ দুটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য হতে আপত্তি জানানোর পর এ চুক্তি হয়। 

অস্ট্রিয়া বিরোধিতা করেছিল আরও অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করতে পারে এই ভয়ে। তারা বলেছিল,অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়ার আরও কিছু করা উচিত। তবে পরে অস্ট্রিয়া এই দুই বলকান রাষ্ট্রকে শেনজেনে প্রবেশ করতে দিতে রাজি হয়।

জার্মানির বার্লিন থেকে বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় অবতরণ করা মিনচো ইউরুকভ বলেছেন, “বুলগেরিয়ার জন্য এ এক চমৎকার অর্জন বৈকি। এতে বুলগেরিয়ার নাগরিক হিসাবে আমাদের অনেক বিষয় সহজ হয়ে যাচ্ছে।”

“তাছাড়া এখন আমাদের নিজেদেরও ইউরোপীয় মনে হচ্ছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফ্লাইট ছিল আরও ভাল। কোনও পাসপোর্ট চেকিং ছিল না,” বলেন ইউরুকভ।

রোববার বুলগেরিয়ার বিদায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালিন স্টয়ানভ সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বছরের শেষ দিকে শেনজেন অঞ্চলের পূর্ণ সদস্য হয়ে যাবে বুলগেরিয়া। আর তা হলে সড়ক ও রেলপথে কোনও পাসপোর্ট চেকিং ছাড়েই মানুষ ও পণ্য পরিবহন করা যাবে।

রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রীও আশা প্রকাশ করে বলছেন, চলতি বছর স্থলপথে শেনজেন অঞ্চলে যুক্ত হওয়ার আলোচনা শেষ হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা আকাশ ও সমুদ্রপথের রুটে সীমান্ত চেকিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি।

“দুই দেশের জন্যই এটি একটি বিরাট সফলতা। আমরা একসঙ্গে আমাদের সব নাগরিকের জন্য একটি আরও শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ গড়ে তুলছি।”

৪০ কোটি মানুষ শেনজেন অঞ্চলে অবাধে যাতায়াত করতে পারে। রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছিল।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল ঠেকাতে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, স্লোভাকিয়ার গঠিত আঞ্চলিক পুলিশ উদ্যোগেও যোগ দিয়েছে বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া।

গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স বলেছিল, তারা তুরস্ক থেকে ইইউয়ে মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে বুলগেরিয়ায় তাদের কর্মকর্তার সংখ্যা তিনগুণ বাড়াবে।