০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

আলোচনা চেয়ে ভ্যান্সের চিঠি পাঠানো ইতিবাচক পদক্ষেপ: আরাকচি

আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে এ পর্যায়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আলোচনা চেয়ে ভ্যান্সের চিঠি পাঠানো ইতিবাচক পদক্ষেপ: আরাকচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 12:47 AM

Updated : 01 Nov 2026, 12:47 AM

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’। তিনি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স একটি চিঠি পাঠিয়েছেন আর ইরান উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে চিঠিটি পর্যালোচনা করছে।

কিন্তু আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে এ পর্যায়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরেন। এসব শর্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যাওয়ার একদিন পর ইরানের একটি প্রতিনিধি দল দোহায় গিয়েছে। এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগেরই অংশ। তার একজন সহযোগী পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে কাতারে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, “আমেরিকান পক্ষ সংলাপের পথ খোলার ও আরও বৃহত্তর পরিসরে বোঝাপড়ার উদ্যোগ নিয়েছে, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি এই চিঠি পাঠানোর পেছনে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হয় বিবাদ সৃষ্টি করা, তবে তা হবে তাদের আগের ভুলগুলোর তালিকায় আর একটি নতুন সংযোজন।”

‘আমেরিকানদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো প্রয়োজন নেই’

আরাকচি উভয় পক্ষের মধ্য আসন্ন বৈঠকের আলোচনাকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেছেন, “এ বিষয়ে যা কিছু প্রচার করা হয়েছে তা শুধু সংবাদমাধ্যমের অনুমান। এই পর্যায়ে আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমাদের শর্তগুলো পরিষ্কার আর মধ্যস্থতাকারীরা এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

তিনি জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা চালাবে কি না, তা নির্ভর করে তেহরানের শর্তগুলো মানার উপর।

“কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন,” বলেন তিনি।

হরমুজে জন্য শর্ত

আরাকচি বলেছেন, “কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি ফের খোলার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সময়কাল কমিয়ে পাঁচ দিন করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে আলোচনার ফলে এই পর্যায়ে আমরা এমন একটি প্রস্তাবে পৌঁছেছি, যা বাস্তবায়নের সময়কাল কমিয়ে দুই দিনে নামিয়ে এনেছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা এবং এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি হ্রাস করা। আমরা তেল সংক্রান্ত ছাড় পুনর্বহাল করার এবং কাতারে থাকা অর্থসহ আমাদের অবরুদ্ধ সব তহবিল অবমুক্ত করার দাবি জানাই।”

তিনি জানান, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের এমন সব রুটের স্বীকৃতি দাবি করছে যেগুলো নিয়ে তারা ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি তারা অন্য রুটগুলো বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইরানের অবস্থানে ‘উল্লেখযোগ্য কোনো নমনীয়তা দেখা যায়নি’। আলোচনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও তেহরান তাদের আগের দাবিগুলোতেই অটল রয়েছে।

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় ওয়াশিংটন তেহরানকে তেল সংক্রান্ত ছাড়ের নিশ্চয়তা দিয়েছিল আর বলেছিল যে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। কিন্তু কয়েক মাস পর সেই সমঝোতা স্মারকটি ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র সব ছাড় বাতিল করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান প্রণালিটি খুলে দিক। আর উভয়পক্ষ চায়, তাদের দাবিগুলো শুধু কাগজে-কলমে না, বাস্তবেও পূরণ করা হোক।

“সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত’

আল জাজিরার কাছে করা মন্তব্যে আরাকচি বলেছেন, ইরানে আরেকটি হামলার সম্ভাবনাকে তারা নাকচ করে দিচ্ছেন না।

“আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি,“ বলেছেন তিনি।

আমরা আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার উন্নত করেছি, দুর্বলতাগুলো দূর করেছি আর নুতন অস্ত্র পরীক্ষা করেছি। আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন ৪ নভেম্বর ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে, এমনটি জানিয়ে ওয়াশিংটন পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার জন্য সতর্ক করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ এই আলোচনার বিষয়ে অবগত পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে।

গণমাধ্যমে আসা এমন খবরগুলোকে আর বিভিন্ন মাধ্যমে চাউর হওয়া সম্ভাব্য হামলার জল্পনা-কল্পনাকে সামনে রেখে আরাকচি এসব মন্তব্য করেন।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ইরানে ফের হামলা চালাতে পারে, এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্ররকে সতর্ক করে ‘নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন যে কোনো শত্রুর হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দেয় আর এই জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ‘ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা’ যেন না থাকে।