বেনামে হুমকি, কাশ্মীরে সাংবাদিকদের বাড়িতে পুলিশের হানা

অনলাইনে বেনামে হুমকি দেয়া পোস্টে সাংবাদিকরা ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ‘মিলে’ কাজ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

রয়টার্স
Published : 19 Nov 2022, 05:42 PM
Updated : 19 Nov 2022, 05:42 PM

অনলাইনে বেনামে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে শনিবার হানা দিয়েছে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

পুলিশের ধারণা, পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা এবং তাদের শাখা দ্য রেজিসটেন্স ফ্রন্ট ওই হুমকির পেছনে রয়েছে।

সংবাদিকদের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের সময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় সাংবাদিক সাজিদ আহমেদ ক্রালিয়ারিকে ধরে নিয়ে যায় বলেও জানায় রয়টার্স। তার ল্যাপটপ, ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

যাদের বাড়িতে শনিবার পুলিশ হানা দিয়েছে তাদের মধ্যে লেখক গওহর গিলানিও রয়েছেন।

গওহর, সাজিদ বা অন্যান্য সাংবাদিক যাদের বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে তাদের সবার ফোনেই রয়টার্স থেকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু সবগুলো ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘শ্রীনগর, অনন্তনগর ও কুলগ্রামের ১০টি স্থানে তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিকের হুমকি পাওয়ার মামলার সঙ্গে এই তল্লাশি অভিযানের সম্পর্ক রয়েছে।”

এদিন একজন আইনজীবীর বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায়। ওই আইনজীবী একটি সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় আসামীদের পক্ষে আদালতে লড়েছিলেন।

গত সপ্তাহে ভারতের পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা নথিভুক্ত করে। যেখানে কাশ্মীরের এক ডজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বেনামে অনলাইনে হুমকি দিয়ে বার্তা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

অনলাইনে হুমকি দিয়ে ওই সব পোস্টে বলা হয়, সাংবাদিকরা ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ‘মিলে’ কাজ করছেন। তাছাড়ও ‘দিল্লির সমর্থনে’ ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায়’ পরিচালিত কাশ্মীরের তিনটি মিডিয়া হাউজের কর্মীদের ‘ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ করে হুমকি দেয়া হয়।

হুমকি পাওয়ার পর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের পাঁচজন সাংবাদিক আতঙ্কে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক