০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

যুদ্ধবিমানের পাহারা ও জরুরি অবতরণ: ইউরোপজুড়ে একাধিক ফ্লাইটে ফের বোমার হুমকি

অন্তত ২৫টি ফ্লাইটের বেশ কয়েকটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে কিংবা যুদ্ধবিমান দিয়ে সেগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যুদ্ধবিমানের পাহারা ও জরুরি অবতরণ: ইউরোপজুড়ে একাধিক ফ্লাইটে ফের বোমার হুমকি

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 08:55 PM

Updated : 05 Nov 2026, 08:55 PM

ইউরোপের আকাশে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো আয়ারল্যান্ড থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় এয়ারলাইনসগুলোতে একের পর এক ভুয়া বোমা হামলার হুমকি এসেছে।

ফলে অন্তত ২৫টি ফ্লাইটের বেশ কয়েকটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে কিংবা যুদ্ধবিমান দিয়ে সেগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যদিও কোনও দেশই এখন পর্যন্ত এই হুমকিগুলোর জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করেনি, তবে এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন ইউরোপের অনেক কর্মকর্তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা এবং 'হাইব্রিড হামলা' পরিচালনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ তুলছেন, যে হামলাগুলো সাধারণত সস্তা, সহজে অস্বীকার করা যায় এবং যার ফলে কোনও সশস্ত্র পাল্টা সামরিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা থাকে না।

বৃহস্পতিবারের ফ্লাইট বিপর্যয়ের শিকার হওয়া ডেনমার্ক, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া—এই তিন দেশই এর আগে সরাসরি রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে।

অন্যদিকে, গত অগাস্ট মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে হামলার জন্য জার্মানি রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।

যুক্তরাজ্য অতীতে রাশিয়াকে দায়ী করলেও, সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার সন্দেহজনক ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের যোগসূত্র থাকার কথা বলেছে।

তবে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

বিমান চলাচল নিরাপত্তা গ্রুপ ড্যামি- এর বিশেষজ্ঞ এরিক শাউটেনের মতে, যেসব দেশের এয়ারলাইনস বা বিমানবন্দরে এই বোমার হুমকি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তারা সবাই ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করছেন যে, ইউক্রেইনকে সমর্থন করার কারণেই হয়ত এই দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ভূ-রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিক থেকে দেখলে, আমাদের সবসময় 'হাইব্রিড যুদ্ধের কথা মাথায় রাখতে হবে। যেমন: আজ আমরা রাশিয়ার ক্ষেত্রে দেখছি। তারা সরাসরি সেনা না পাঠিয়েও আমাদের ওপর চারদিক থেকে আক্রমণ করছে—রেললাইন, সুপারমার্কেট, এমনকি রক্তের ব্যাংক পর্যন্ত। এর মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত, ইন্টারনেট এবং বিমান খাতও রয়েছে।"

বুলগেরিয়ার বিমান বাহিনী জানিয়েছে,তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তিনটি যাত্রীবাহী বিমানকে মাঝআকাশ থেকে পাহারা দিয়ে মাটিতে নামিয়ে এনেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোপেনহেগেন এবং মাদ্রিদ থেকে সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের বিমান দুটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই অবতরণ করেছে,

তবে লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে দিক পরিবর্তন করিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভডিভে অবতরণ করানো হয়।

স্পেনের সিভিল গার্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ ইমেইলের মাধ্যমে তিনটি বোমার হুমকি পায়।

এসব হুমকির আওতায় ছিল মাদ্রিদ থেকে প্যারিসগামী এয়ার ইউরোপার দুটি বহির্গামী ফ্লাইট এবং রোম ও মিলান থেকে স্পেনে যাওয়া ইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট।

বিমানগুলো তল্লাশি করার জন্য বেশ কয়েকটি বিমানকে থামানো হয়েছিল বা পার্কিংয়ের জায়গায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের দুটি ইজিজেট, আয়ারল্যান্ডের একটি এবং গ্রিসের একটি উড়োজাহাজ পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে অবতরণ করেছে।

চেক পুলিশ জানিয়েছে, এই হুমকিগুলোর সত্যতা কম ছিল। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে ইতালির রোমগামী ফিনএয়ার এর একটি বিমানকে ইতালীয় বিমান বাহিনী যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দিয়ে তার পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যে নিরাপদে নামিয়ে এনেছে।

রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনার কারণে তাদের বিমান চলাচল সেবায় কোনও বিঘ্ন বা ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি।

ফিনএয়ার জানিয়েছে, জেটটাইম পরিচালিত হেলসিঙ্কি থেকে আসা তাদের আরেকটি ফ্লাইট বোমার হুমকি পাওয়ার পরও ভিয়েনাতে স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জানেন এমন একজন জানিয়েছেন, ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে ইতালির রোমগামী ফিনএয়ার এর একটি বিমানকে ইতালীয় বিমান বাহিনী যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দিয়ে তার পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যে নিরাপদে নামিয়ে এনেছে।

রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার কারণে তাদের বিমান চলাচল সেবায় কোনও বিঘ্ন বা ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি।

ফিনএয়ার জানিয়েছে, বোমার হুমকি পাওয়ার পর ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে আসা তাদের আরেকটি বিমান অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।

ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, হুমকি পাওয়ার পর দুটি বিমান ইতালির মিলানে নিরাপদে অবতরণ করেছে।