সীমান্তে ঠান্ডায় ভারতীয় পরিবারের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তের কাছে গতবছর ঠান্ডায় জমে ভারতীয় একটি পরিবারের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের পুলিশ দুই অভিবাসন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Jan 2023, 03:36 PM
Updated : 17 Jan 2023, 03:36 PM

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তের কাছে গতবছর জানুয়ারিতে ঠান্ডায় জমে চার সদস্যের একটি ভারতীয় পরিবারের মৃত্যুর ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ।

মারা যাওয়া চারজন হলেন- জগদীশ প্যাটেল (৩৯), বৈশৈলবেন প্যাটেল (৩৭), তাদের সন্তান বিহাঙ্গী (১১) ও ধার্কমিক (৩)। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত থেকে ১২ মাইল দূরে কানাডার ম্যানিটোবার কাছে ঠাণ্ডায় জমে মারা যান।

মৃতরা ভারতের গুজরাট রাজ্যের গান্ধীনগরের কালোল তহসিলের ডিঙ্গুচা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তারা অবৈধভাবে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।

গুজরাট রাজ্যে কর্তৃপক্ষ বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি ‘অবৈধ অভিবাসন’ দালাল। পুলিশ যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার দুই দালালকেও ধরার চেষ্টা করছে।

ভারতীয় ওই প্যাটেল পরিবারটি প্রথমে টরন্টোগামী একটি ফ্লাইটে চড়ে গতবছর ১২ জানুয়ারিতে কানাডায় পৌঁছায়। সেখান থেকে তারা পশ্চিমে ম্যানিটোবার পথে যাত্রা করে পরে সীমান্ত শহর এমারসনে যায় ১৮ জানুয়ারি। পরদিন রাতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

এমারসনে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের কাছে কোনও যানবাহন ছিল না। এ থেকে ধারণা করা হয়, কেউ প্যাটেল পরিবারকে পায়ে হেঁটে যাত্রা করার আগে ওই সীমান্ত শহরে নামিয়ে দিয়ে গেছে।

পরিবারটি যে রাতে পায়ে হেঁটে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেছিল, সেই রাতে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৩১ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। পরিবারটি ১১ ঘণ্টা হেঁটেছিল বলে শোনা গেছে। তাদের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বব্যাপী খবরের শিরোনাম হয়েছে।

বিবিসি জানায়, গুজরাট থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টায় থাকা ১১ জনের একটি দলের মধ্যে ছিল প্যাটেল পরিবারও। ওই দলটির ৭ জন সীমান্ত পেরোনোর পর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়েছে।

গুজরাটের আহমেদাবাদে সোমবার সাংবাদিকদেরকে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা চৈতন্য মান্দলিক বলেন, নগরীর অপরাধ শাখা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বলা হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তে তুষারের মধ্যে ১১ জনকে হাঁটতে বাধ্য করেছিল।

ওদিকে, কানাডার সংবাদ সংস্থা কানাডিয়ান প্রেস এক প্রতিবেদনে বলেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিবাসন দালাল হিসাবে কাজ করার অভিযোগ আছে। তারা ভারতীয় ওই পরিবারের সদস্যদের ফরম সরবরাহ করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সহায়তা করেছিল।

তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়ার মতো বেআইনি কর্মকান্ডের অভিযোগও আনা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক