৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

কঙ্গোয় ইবোলায় প্রাণহানি ছাড়াল ৫ হাজার

অনুমোদিত প্রতিষেধক বা চিকিৎসা না থাকায় ইতিহাসের রেকর্ড মৃত্যু ঘটানো এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

কঙ্গোয় ইবোলায় প্রাণহানি ছাড়াল ৫ হাজার

বুতেম্বো শহরের একটি কবরস্থানে ইবোলায় মারা যাওয়া আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার গর্ভের সন্তানের শেষকৃত্যে স্বজনরা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 02:29 PM

Updated : 31 Oct 2026, 02:29 PM

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রাণহানি ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো কার্যকর উপায় বের করতে পারেনি বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গত মে মাসে প্রাদুর্ভাব শুরুর ঘোষণার পর থেকে কঙ্গোয় এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ ইবোলায় সংক্রমিত হয়েছেন।

চলমান এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরন। ভাইরাসটির এই ধরনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর প্রতিষেধক এখনো নেই।

লক্ষণ দেরিতে শনাক্ত হওয়া, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটিতেই ইতিমধ্যে এ রোগের বিস্তার ঘটেছে।

সংক্রমণ এখন আর কেবল কঙ্গোর ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও।

গত সপ্তাহে চতুর্থ আফ্রিকান দেশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়, যার মাধ্যমে ভাইরাসটির বিস্তার পশ্চিম আফ্রিকাতেও পৌঁছে গেল। এর আগে পূর্ব আফ্রিকার দুই দেশ কেনিয়া ও উগান্ডায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

চলতি বছরের এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর চেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মহামারীর সময়ে। সে সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের সরকার ইতোমধ্যে সংক্রমিত দেশগুলোতে ভ্রমণ সীমিত করেছে কিংবা সেসব অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার কেনিয়া থেকে প্রবেশ ও দেশটিতে ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব।

নতুন নিয়মে সৌদি নাগরিকদের কেনিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি দেশটি থেকে আসা নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে কেনিয়া থেকে আসা কোনো ভ্রমণকারীকে সৌদিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এমনকি অন্য কোনো দেশ হয়ে (তৃতীয় দেশে ট্রানজিট নিয়ে) আসা যাত্রীরাও যদি আগের ২১ দিনের মধ্যে কেনিয়া বা ইবোলা আক্রান্ত কোনো দেশে অবস্থান করে থাকেন, তবে তাদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এর আগে গত জুনে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণ এবং সেসব দেশ থেকে সৌদিতে যাত্রী প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল রিয়াদ।