০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরের সড়কে শ্রমিক নেই, ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন: ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার

“অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 01:36 PM

Updated : 04 Nov 2026, 01:36 PM

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম।

বুধবার মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

তার কথায়, শ্রমিকরা সড়কে নামতে পারেননি। অনেকগুলো কারখানায় শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন, সেসব জায়গায় উৎপাদন কাজ চলছে।

মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেও জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

মহিদুল ইসলাম বলেন, “এসব ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

গেল কদিনে আন্দোলন-সহিংসতা ঘিরে কত সংখ্যক গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, “এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। অভিযান চলছে। কাউকে আটকের আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তদারকিতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

তার কথায়, অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।”

শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবির বিষয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।

শ্রমিকদের ‘উসকানি দিয়ে একটি পক্ষ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে’ অভিযোগ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত শ্রমিকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। যারা আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।