আফ্রিকার শান্তি মিশনের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ইউক্রেইনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।
Published : 16 Jun 2023, 05:42 PM
আফ্রিকার নেতারা এক শান্তি মিশনে ইউক্রেইনে সফর শুরু করার মধ্যেই অন্তত দুটি বিস্ফোরণে কেঁপেছে রাজধানী কিইভ। এ সময় বিমান হামলার সাইরেনও শোনা গেছে।
আফ্রিকার প্রতিনিধি দলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালসহ কমোরোস ও মিশরের নেতারা রয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
এই প্রতিনিধি দল শুক্রবার ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এবং শনিবার সেইন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি দু’টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পোদিল এলাকায় বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে। রাজধানীর দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
কিইভে থাকা রয়টার্সের আরেকজন প্রতিনিধি আকাশে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ার রেখা দেখেছেন। তবে এগুলো রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র না ইউক্রেইনের এয়ার ডিফেন্সের, তা পরিষ্কার হয়নি।
রয়টার্সের একজন টেলিভিশন ক্রু দেখেছেন, একটি গাড়িবহর যোগে কিইভে আসা আফ্রিকার নেতারা একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন সেটির এয়াররেইড শেল্টার ব্যবহার করার জন্য।
কিইভের নিকটবর্তী বুচা শহর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এই নেতারা তাদের ইউক্রেইন সফর শুরু করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেইনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করার পর রুশ বাহিনী এই বুচায় বড় ধরনের নৃশংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ইউক্রেইনের। রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আফ্রিকার শান্তি মিশন মধ্যস্থতার প্রাথমিক চেষ্টার সময় ‘আস্থা তৈরির পদক্ষেপে’ অনেকগুলো প্রস্তাব রাখতে পারে বলে কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া নথির বরাতে জানিয়েছে রয়টর্স; নথিটি তারা দেখেছে বলে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে।
নথিটিতে বলা হয়েছে, “মিশনের উদ্দেশ্য হল শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং পক্ষগুলিতে কূটনীতির নেতৃত্বাধীন আলোচনা প্রক্রিয়ায় সম্মত হতে উৎসাহিত করা।”
‘আস্থা তৈরির পদক্ষেপ’ হিসেবে যেসব প্রস্তাব থাকতে পারে সেগুলো হল, রাশিয়ার সেনা ফিরিয়ে নেওয়া, বেলারুশ থেকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া, পুতিনকে লক্ষ্য করে জারি করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন স্থগিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা; নথিটিতে এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এরপর শত্রুতার সমাপ্তি ঘটানোর সমঝোতা হবে এবং এর সঙ্গে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও আলোচনার দরকার হবে, বলা হয়েছে নথিটিতে।
রাশিয়ার দখলদার বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ইউক্রেইন পাল্টা আক্রমণ শুরু করার অল্প সময় পরই আফ্রিকার এই শান্তি মিশনটি শুরু হল।
পাল্টা আক্রমণ শুরু করে কিছু এলাকা থেকে রুশ বাহিনীকে পিছু হটাতে পারলেও ইউক্রেইনে রাশিয়ার বাহিনীগুলো যে বিশাল অঞ্চল দখল করে রেখেছে তার একটি ভগ্নাংশ মাত্র কিইভ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।
কিইভ জানিয়েছে, তাদের শান্তি উদ্যোগের প্রধান শর্তই হচ্ছে ইউক্রেইনের ভূমি থেকে রাশিয়ার বাহিনীগুলোর প্রত্যাহার আর যুদ্ধের যে কোনো মিমাংসার এটিই হতে হবে প্রধান ভিত্তি।
আরও খবর: