রাশিয়া কোন মুখে বলে? ঢাকায় ল্যাভরভের বক্তব্যের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের

গত ৭ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকা আসেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 03:39 AM
Updated : 30 Jan 2024, 03:39 AM

ঢাকা সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের তরফ থেকে।

ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রসঙ্গ ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, অন্য দেশে হস্তক্ষেপ নিয়ে কথা বলা রাশিয়ার শোভা পায় না। 

জি২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকা আসেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সে সময় দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তিনি কথা বলেন।

সে প্রসঙ্গ ধরে একজন সাংবাদিক বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ রাশিয়া প্রতিহত করবে বলে ওই সফরে হুঁশিয়ারি দেন ল্যাভরভ। আর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ল্যাভরভ বলেন ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য জানতে চান ওই সাংবাদিক।

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, রাশিয়া তার দুই প্রতিবেশীর ওপর হামলা চালিয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনে প্রতিদিন বোমা মারছে। অন্য দেশের ওপর কেউ কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে– এমন কথা রাশিয়ার মত দেশের বলা উচিত নয়।

মিলার বলেন, “স্পষ্টভাবে বলতে গেলে,  সের্গেই ল্যাভরভের সচেতনভাবে বলা এমন বক্তব্য এটিই প্রথম নয়।”

অবাধ ও মুক্ত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল চাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অভিন্ন লক্ষ্য থাকার কথা তুলে ধরে মার্কিন মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ক্ষেত্রে আমি বলছি, অবাধ ও উন্মুক্ত, সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও সহনশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের লক্ষ্য এক । সেটাই আমাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আকাঙ্ক্ষা এবং সেটাই আমাদের অবস্থান।”

জি-২০ সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘চমৎকার আলোচনার’ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ ও পররাষ্ট্র দপ্তর কেন বিবৃতি দেয়নি, সে প্রশ্নও করা হয় ব্রিফিংয়ে।

উত্তরে মিলার বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের যেসব বৈঠক হয়েছে, তা হোয়াইট হাউজ প্রকাশ করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক মামলায় যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ ছয়জনের সাজার প্রসঙ্গও ব্রিফিংয়ে আসে।

ওই রায়ের বিষয়টি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ‘হয়রানি’ করছে সরকার, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী?

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকরা অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা পালন করে। তাদের কাজের মধ্য দিয়ে দুর্নীতির ঘটনা উন্মোচিত হয়; জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত হয়। নিত্যদিনের যেসব বিষয় মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে তাদের অবগত করার সুযোগ সাংবাদিকদের দিতে হবে।

“আপনারা যেমন প্রতিদিন এখানে আমার কাছ থেকে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান, ঠিক তেমনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার সুযোগ সাংবাদিকদের দিতে হবে। তারা যেন নির্ভয়ে এবং কোনো ধরনের হয়রানি, চাপ বা সহিংসতা ছাড়াই তাদের কাজ করে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

আর বাংলাদেশের যেসব সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তাদের ওপর সরকারের পদ্ধতিগত এবং নিপীড়নমূলক আচরণের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)