১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে সিলেট ছাড়লেন সারওয়ার আলম

“বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।”

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jun 2026, 10:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:28 PM

প্রত্যাহার আদেশের দুই দিনের মাথায় সিলেট ছেড়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

সিলেট ত্যাগ করার আগে নিজের ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। এতে লেখেন, “বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।” 

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন আলোচিত এই জেলা প্রশাসক।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, দুপুর ১টার দিকে সারওয়ার আলম সিলেটের সরকারি বাসভবন ত্যাগ করে বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় যান তিনি।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে সারওয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সম্প্রতি মাজারে দানের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। 

সেই সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করা এবং ‘নিরাপত্তার জন্য’ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়; যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা।

পরদিন সিলেটের হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার পরিদর্শন করে মাজারটির আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন ডিসি সারওয়ার আলম।

এর মধ্যে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন কয়েকটি সংগঠন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চলা এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।