ভারতে ৭১৮টি বিপন্ন তুষার চিতার সন্ধান

বনাঞ্চল ধ্বংস করে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চোরাশিকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে দিন দিন তুষার চিতার সংখ্যা কমছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2024, 12:05 PM
Updated : 31 Jan 2024, 12:05 PM

ভারতে প্রথম প্রাণী সমীক্ষায় ৭১৮ টি তুষার চিতার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ, বিশ্বের মোট তুষার চিতার ১০-১৫% এর আবাস ভারতে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার’ তুষার চিতাকে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। বনাঞ্চল ধ্বংস করে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চোরাশিকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে দিন দিন তুষার চিতার সংখ্যা কমছে।

ভারতে প্রথম এই তুষার চিতা গণনা করেছে দেরাদুনের ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত 'স্নো লেপার্ড পপুলেশন অ্যাসেসমেন্ট ইন ইন্ডিয়া (এসপিএআই) প্রোগ্রাম' –শীর্ষক এ সমীক্ষাটি করা হয়।

মঙ্গলবার সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতে ট্রান্স-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার (৪৬,৩৩২ বর্গ মাইল) জুড়ে তুষার চিতার সম্ভাব্য আবাসস্থলের ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় জরিপ চারিয়েছে এসপিএআই।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই সমীক্ষার আগে ভারতে তুষার চিতার সংখ্যা নির্ধারিত ছিল না। কারণ, দেশজুড়ে এই বিপন্ন প্রাণীটির আবাসস্থল তখন একান্তভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।”

বিবিসি জানায়, লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল, উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড রাজ্য এবং উত্তর-পূর্বে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশসহ দেশের তুষার চিতার সম্ভাব্য আবাসস্থলের ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ে এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

ক্যামেরায় ২১৪টি তুষার চিতা শনাক্ত হয়। এরপর সমীক্ষকরা চিতার পায়ের ছাপ দেখে এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রাণীর মোট সংখ্যা ৭১৮ বলে অনুমান করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারী হিসেবে এ চিতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে প্রাণীটির সঠিক সংখ্যা জানা জরুরি।

তুষার চিতার সংখ্যা ওই এলাকার বাস্তুতন্ত্রের আবহ কেমন তা জানার পাশাপাশি এর আবাসস্থলের সম্ভাব্য হুমকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া নানা পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই প্রাণীর আবাসভূমির ৭০ শতাংশই অরক্ষিত। প্রাণীটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।