ভোট জালিয়াতির অভিযোগ: পাকিস্তানে সিইসি ও প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি পিটিআইয়ের

রাওয়ালপিন্ডির নির্বাচন কমিশনার লিয়াকত আলি ভোট জালিয়াতিতে নিজের এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান বিচারপতির জড়িত থাকার কথা বলার পর পাকিস্তানের রাজনীতিতে তোলপাড় হচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Feb 2024, 04:41 PM
Updated : 18 Feb 2024, 04:41 PM

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির নির্বাচন কমিশনার লিয়াকত আলি চাতা গণমাধ্যমের সামনে ভোট জালিয়াতিতে নিজের জড়িত থাকার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর দেশজুড়ে সাধারণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

লিয়াকতের আরও অভিযোগ ছিল, পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসাও ভোট কারচুপিতে জড়িত। নির্বাচন কমিশন ও প্রধান বিচারপতি অভিযোগ অস্বীকার করলেও লিয়াকতের কথা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে রাজনীতিতে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারান্তরীণ ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং এর মিত্রদলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেছে।

রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ পত্রিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটিআই য়ের মুখপাত্র বলেছেন, লিয়াকত চাতার অভিযোগের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজা এবং প্রধান বিচারপতি ফয়েজ ইসার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, পিটিআই রাতের অন্ধকারে ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলছিল, চাতার স্বীকারোক্তি সে অভিযোগেরই স্বীকৃতি। একইসঙ্গে চাতার বক্তব্য ভোট কারচুপিতে জড়িত অন্যদের আসল চরিত্রও প্রকাশ করে দিয়েছে।

পিটিআই মুখপাত্র আরও বলেন, রাওয়ালপিন্ডির কমিশনার স্বীকার করেছেন যে, ৭০ হাজার ভোটেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়কে জালিয়াতি করে পরাজয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, লিয়াকত আলির সাক্ষ্য পিটিআই-এর অবস্থানকে সমর্থন করে। তার কথাতেই বোঝা যায়, মানুষ পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিপুল ভোট দিয়েছে। রাতের আঁধারে ভোট জালিয়াতি করে জয়ী পিটিআই প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের উচিত পিটিআই-এর কাছ থেকে চুরি করে নেওয়া ৮৬ টি আসন অবিলম্বে ফেরত দেওয়া। জনরায় চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

পিটিআই এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) উভয়ই লিয়াকত আলি চাতার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) লিয়াকতের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পিএমএল-এন নেতা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, রাওয়ালপিণ্ডির কমিশনার একজন সাইকো বলে মনে হয়। সেকারণে তিনি আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছিলেন।

লিয়াকত আলি চাতার শনিবার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলাপের সময় ভোট জালিয়াতির স্বীকারোক্তি দেন। বিবেকের তাড়নায় তিনি নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়গুলো প্রকাশ করেছেন বলে জানান।

লিয়াকত বলেন, পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনের ৬টি জেলার ১৩টি আসনে তিনি ভোট জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন। এর দায় স্বীকার করে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

লিয়াকতের এই অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখনও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও নোটিশ জারি করেনি। আদালতের বিচারপতিরা কেবল নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন।

বাতিল ঘোষিত হবে ২০২৪ সালের নির্বাচন?

সুপ্রিম কোর্ট কোনও সুয়ো মুটো (স্বতঃপ্রণোদিত) নোটিশ জারি না করলেও প্রধান বিচারপতি ইসার নেতৃত্বে তিন-বিচারকের প্যানেল গত ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাতিল ঘোষণা এবং ৩০ দিনের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একটি পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠান করবে বলে জানিয়েছে দ্য ডন।

এই পিটিশন দাখিল করেছেন সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা। পিটিশনে নির্বাচনের এই বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকার গঠন স্থগিত রাখার আদেশ জারিরও অনুরোধ জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম জি নিউজের প্রদর্শিত ফলাফল অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পার্লামেন্টে ৯২টি আসন পেয়েছে, আর পিএমএল-এন পেয়েছে ৭৯টি ও পিপিপি ৫৪টি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ শুরু থেকেই করে এসেছেন পিটিআই এর নেতারা। কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

একদিকে, পিপিপি এবং পিএমএল-এন শাহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করে জোট সরকার গড়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, পিটিআই’ও একইভাবে ছোট দু’একটি দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবং ওমর আইয়ুব খানকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে।