২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অন্ধকার গাজা, হামাসের ওপর জোরদার হামলা

গাজায় মাটির ওপর-নিচে হামলা চলছে, ত্রাস সৃষ্টিকারী সবার ওপর সব জায়গায় হামলা চলছে। নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে- বলেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অন্ধকার গাজা, হামাসের ওপর জোরদার হামলা

ছবি: রয়টার্স।

রয়টার্স

Published : 28 Oct 2023, 10:48 PM

Updated : 28 Oct 2023, 10:51 PM

হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পরপরই গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। আর এখন গাজায় জ্বালানি শেষ হয়ে আসায় অন্ধকার নেমে এসেছে। তার ওপর শনিবার ইসরায়েল সেখানে নানা জায়গায় বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ করতে থাকায় বহির্বিশ্ব থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই ভূখণ্ডটি।

ইসরায়েল জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গাজায় পাঠানো স্থলসেনারা এখনও মাঠে রয়েছে। এদিন ইসরায়েল বিস্তৃত পরিসরে স্থল হামলা চালাতে গাজায় সেনা পাঠায়। এর আগে ছোটখাট কিছু স্থল অভিযান পরিচালনা করেছিল ইসরায়েল।

গাজার উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তীব্র লড়াই হওয়ার কথাও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেডস।

সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক গাজায় ঢুকলে উত্তর গাজার বেইত হানুন এবং মধ্য গাজার বুরেজের কাছে তীব্র লড়াই হয় বলে হামাসের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্ত এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা মাটির ওপরে,মাটির নিচে হামলা চালাচ্ছি। আমরা ত্রাস সৃষ্টিকারী সবার ওপর সব জায়গায় হামলা চালাচ্ছি। নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

 ইসরায়েলের সেনাবাহিনী আবার নতুন করে গাজার উত্তরের বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। উত্তরের এলাকাগুলোতে আবাসিক ভবনগুলোতে হামাস যোদ্ধারা লুকিয়ে আছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে ফিলিস্তিনিরা বলছে, গাজার কোনও জায়গাই নিরাপদ নয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই গাজা পুরোপুরি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর জন্য ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী শুক্রবার রাতে যেভাবে গাজায় অভিযান জোরদার করেছে, তাতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অভিযানের মাধ্যমে গাজায় পুরোদস্তুর ‘স্থল অভিযান’ ইসরায়েল শুরু করল কি-না সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এতে করে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানকার ভেতরে এবং বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা নেই। মানবাধিকার বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, গাজায় এক ধরনের যোগাযোগ ব্ল্যাকআউট চলছে।

এই বিভ্রাটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স কাজ করতে পারছে না, রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না, মানুষ নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস।

তিনিসহ অন্যান্য ত্রাণ সংস্থাগুলোও তাদের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলা যায়।

এই ব্ল্যাকআউটের কারণে গাজার ‘গণ-নৃশংসতা’ ঢাকা পড়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ব্রাউন।

গাজার তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার না হলে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সবটুকু চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে না বলে এর আগে উদ্বেগ করেছে দ্য কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।