গাজায় স্থল হামলার জন্য প্রস্তুত ইসরায়েলি বাহিনী
ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজার সীমান্তের কাছে প্রায় তিন লাখ সেনা জড়ো হয়েছে এবং তারা স্থল হামলার জন্য প্রস্তুত।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের জবাব আরও বিস্তৃত করে এবার গাজায় স্থল হামলা শুরু করার প্রত্যয় জানিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার গাজার সীমান্ত বেড়ার কাছে ইসরায়েলি সেনাদের উদ্দেশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওভ গ্যালান্ট বলেন, “হামাস একটা পরিবর্তন চেয়েছিল, সেটি তারা পাবে। গাজায় যা ছিল তা আর থাকবে না।
“আমরা আক্রমণ শুরু করেছি আকাশপথে, পরে স্থলপথেও আসবো আমরা। দ্বিতীয় দিন থেকেই আমরা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছি আর আমরা আক্রমণে আছি, শুধু এর তীব্রতা বাড়বে।”
ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজার সীমান্তের কাছে প্রায় তিন লাখ সেনা জড়ো হয়েছে এবং তারা স্থল হামলার জন্য প্রস্তুত।
রয়টার্স জানিয়েছে, টানা ৩৮ বছর গাজা দখল করে রাখার পর ২০০৫ সালে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে ইসরায়েল। ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ভূখণ্ডটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা।
সোমবার গ্যালান্ট জানিয়েছেন, তিনি ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডকে ‘পুরোপুরি অবরুদ্ধ’ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেছেন, “কোনো বিদ্যুৎ, কোনো খাবার, কোনো জ্বালানি ভূখণ্ডটিতে সরবরাহ করা হবে না।”
ইসরায়েলে জানিয়েছে, বুধবার ভোররাতে তাদের কয়েক ডজন জঙ্গি বিমান গাজা শহরের একটি এলাকার দুইশরও বেশি লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। এগুলো নজিরবিহীন হামলা চালানো সময় হামাস ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ করেছে তারা।
এ হামলায় অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে হামাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৯৫০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত ৪৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার হামাসের যোদ্ধারা গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপ করার পর দেশটির সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ফিলিস্তিনি হামলা।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১২০০ জন ছাড়িয়ে গেছে এবং ২৭০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের ভেতরে হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে, এ সময় তাদের সেনারা হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সহায়তা নিয়েছে।
আশকেলনের এ ঘটনায় সেনারা হামাসের তিন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তারা জানিয়েছে, গাজা সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে একটি তেল টার্মিনালে ঘটনাটি ঘটেছে এবং হামলার মুখে সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
