ফের নির্বাচনে দাঁড়াতে চান বাইডেন, সিদ্ধান্ত ২০২৩-এ

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ‘গণতন্ত্রের জন্য ভালো’বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Nov 2022, 08:30 AM
Updated : 10 Nov 2022, 08:30 AM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফের নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এ কথা বলেন; এ সময় মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ‘গণতন্ত্রের জন্য ভালো’বলে অভিহিত করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাইডেনের ডেমোক্র্যাট সহকর্মীরা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছেন।

চলতি মাসে ৮০ বছরে পড়তে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদে একই পদে থাকতে নির্বাচন করবেন কিনা, প্রতিনিয়তই তাকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

বাইডেনের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ওই নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা চলছে।

“আবার দাঁড়ানোর ইচ্ছা আছে আমাদের, এটাই আমাদের চাওয়া। তবে শেষ পর্যন্ত এটা একটা পরিবারিক সিদ্ধান্ত,” সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন বাইডেন, এসময় তার স্ত্রী জিল বাইডেন কাছেই বসে ছিলেন।

বাইডেন জানান, তার পরিবারের সদস্যরা তাকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেখতে চায়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি তাড়াহুড়া করতে চান না।

তার এ চিন্তার সঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কোনো ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

২০২০ সালে বাইডেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা ট্রাম্পও সম্ভবত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌঁড়ে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেয়াদের প্রথম দুই বছর ধরেই বাইডেন গণতন্ত্রের ওপর হুমকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার জয়কে ট্রাম্প স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প সমর্থকরা মার্কিন ক্যাপিটলে তাণ্ডব চালানোর পর থেকে তিনি এ সতর্কতা জানিয়ে আসছেন।  

মধ্যবর্তী নির্বাচনের  প্রচারণার শেষ দিনগুলোতেও তিনি তার এই অবস্থানের ওপরই জোর দিয়েছিলেন।

“আমাদের এটা বোঝাতে হবে যে তিনি (ট্রাম্প) নির্বাচনে দাঁড়ালেও ক্ষমতা নিতে পারবেন না, ফের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না; অবশ্যই এটা (প্রেসিডেন্ট হতে না পারা) সংবিধানসম্মতভাবে হতে হবে,” ট্রাম্পের ফের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ে বিদেশিদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন বাইডেন।  

ট্রাম্প সম্প্রতি বাইডেনের অনেক নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন; মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ‘বড় ঘোষণা’ দেওয়ারও কথা রয়েছে তার।

রিপাবলিকান প্রার্থীতা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিসের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট।

“তাদের একে অপরের মুখোমুখি হওয়া দেখতে মজাই লাগবে,” বলেছেন তিনি।

ফুরফুরে মেজাজে থাকা বাইডেন বুধবার হোয়াইট হাউসের ডাইনিং রুমে সাংবাদিকদের প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় দেন এবং টুইটারের মালিক ধনকুবের এলন মাস্কের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্কসহ নানান ইস্যুতে মুখ খোলেন।

জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের বড় হারের ব্যাপারে যেসব তথ্য এসেছে তা নিয়ে সাংবাদিকদের হালকা খোঁচাও দেন তিনি।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় খানিকটা ভালো করেছে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ‘লাল ঢেউ’ দেখার যে সম্ভাবনার কথা জনমত জরিপগুলো বলছে, ভোটের ফলে তা দেখা যায়নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের ৪০২টির ফল জানা গেছে। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছে ২১০টি, ডেমোক্র্যাটরা ১৯২টি।

সেনেটে অবশ্য পূর্ব ধারণা অনুযায়ী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই-ই চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০০ আসনের সেনেটের ৪৯টি রিপাবলিকানদের দখলে গেছে, ৪৮টি ডেমোক্র্যাটদের।

যে তিনটি আসন উচ্চকক্ষের ভাগ্য ঠিক করবে, তাতে আরিজোনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভালো ব্যবধানেই এগিয়ে আছেন। নেভাডায় রিপাবলিকান প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান মাত্র ১৫ হাজার। ভোট গণনা বাকি এখনও প্রায় ১৬ শতাংশ।

আর জর্জিয়ায় দুই প্রার্থীর কেউই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় ডিসেম্বরে ‘রান অফ’ ভোট হবে। ভোটের এই ফল নিয়ে সন্তুষ্টি ঝরেছে বাইডেনের মুখে।

“এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো দিন ছিল বলে আমি মনে করি,” বলেছেন তিনি।

তবে মার্কিনিরা যে হতাশ, ভোটের ফলে তা দেখা যাচ্ছে বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট এ প্রেসিডেন্ট। মূল্যস্ফীতি ভোটারদের কাছে এখনও সবচেয়ে বড় ইস্যু।

বাইডেন জানান, তিনি রিপাবলিকানদের সঙ্গেও কাজ করতে প্রস্তুত।

“মার্কিন জনগণ বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। রিপাবলিকানরাও যেন আমার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতি নেয়, তা তাদেরও (জনগণ) প্রত্যাশা বলে আমার মনে হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।  

তবে দেশব্যাপী গর্ভপাত নিষিদ্ধের কোনো প্রস্তাব রিপাবলিকানরা আনলে তাতে ভিটো দেবেন বলেও জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট এ প্রেসিডেন্ট। ধনীদের কর কমানোর প্রস্তাবেও তার আপত্তি থাকবে, বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

Also Read: কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হাউজ স্পিকার?

Also Read: মার্কিন সেনেটের ভাগ্য নির্ধারণ জর্জিয়ার রানঅফ ভোটে?

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক