পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিবিসির তৈরি করা তথ্যচিত্রটি দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছিল।
Published : 26 Jan 2023, 12:27 PM
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে সম্প্রতি বিবিসির তৈরি করা একটি তথ্যচিত্র দেখতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের ধরপাকড় করেছে দিল্লি পুলিশ।
বুধবার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যচিত্রটি দেখানোর আগে সেখান থেকে ১৩ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা তথ্যচিত্রটি দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা ‘রাস্তায় হট্টগোল সৃষ্টি করছে’ এবং তাদের এই শো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস চ্যান্সেলর নাজমা আখতার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টাকারী কেউ ছাড় পাবে না।”
গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোশ্চেন’ নামের তথ্যচিত্রটিকে বিতর্কিত কাহিনী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বানানো ‘অপপ্রচার’ বলে অ্যাখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি দেখানো ও শেয়ার করা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।
এর আগে মঙ্গলবার দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনীতে বিঘ্ন ঘটিয়েছিল সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলোর সদস্যরা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে এবং আয়োজকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধের চেষ্টা করা হয়।
আয়োজকদের অভিযোগ, ডানপন্থি শিক্ষার্থীদের একটি দল তথ্যচিত্র দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে আর প্রশাসন থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
এই তথ্যচিত্রে দুই দশক আগে গুজরাটে হওয়া প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় মোদীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই ভয়াবহ দাঙ্গার সময় মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
এই তথ্যচিত্রের সম্প্রচারে মোদী সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের বিরোধীদলগুলো। বুধবার দেশটির ছাত্র সংগঠন এসএফআই ভারতের সব রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
২১ বছর আগে ২০০২ এর ফেব্রুয়ারিতে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল সন্দেহভাজন উচ্ছৃঙ্খল মুসলিম জনতা, এর মধ্যমে স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে ভয়াবহ একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। এই দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদী, যিনি আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো ভারতের ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রেনে আগুন দেওয়ার ওই ঘটনার পর গুজরাটজুড়ে শুরু হয় প্রতিশোধমূলক হামলা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার লক্ষ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের উন্মত্ত জনতা কয়েকদিন ধরে রাস্তায় অবস্থান করে। ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত ১০০০ মানুষ নিহত হয় যাদের অধিকাংশই মুসলিম।
তবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২৫০০ বলে দাবি অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলোর।
মঙ্গলবার কেরালার ক্যাম্পাসগুলোতে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনীর পর সেখানে বিক্ষোভ দেখা দেয়। উত্তর ভারতের শহর চন্ডিগড়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী চলাকালে মাঝপথে শো বাতিল করা হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর।
বিবিসি-র দাবি, ‘বিস্তারিত গবেষণার’ মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাচাই করে তারা ওই তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে। যেখানে নানা ক্ষেত্রের মানুষদের বক্তব্য ও মতামত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) লোকজনের বক্তব্যও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এবার মোদীকে নিয়ে বিবিসি’র তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ঘোষণা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের
মোদীকে নিয়ে বিবিসি’র তথ্যচিত্র প্রদর্শনে এবার ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা
ভারতে টুইটার-ইউটিউবে মোদীকে নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র না দেখাতে নির্দেশ