২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভূমিকম্প: একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা বিদ্রোহী জোটের, মিয়ানমারে পানি-ওষুধের ঘাটতি

“জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধারের সময়সীমা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বা পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন,” বলেছেন ওসিএইচএ-র মার্কোলুইগি কর্সি।

ভূমিকম্প: একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা বিদ্রোহী জোটের, মিয়ানমারে পানি-ওষুধের ঘাটতি
মিয়ানমারের মান্দালয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে রাশিয়ার পাঠানো দল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Apr 2025, 11:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:25 PM

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতার পথ সুগম করতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত দেশটির বড় একটি বিদ্রোহী জোট এক মাসের জন্য একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। 

মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি, তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও আরাকান আর্মির সমন্বয়ে গঠিত থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেয়, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

এক যৌথ বিবৃতিতে এ বিদ্রোহীরা বলেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে তারা আগামী এক মাস কোনো আক্রমণে যাবে না, কেবল আক্রান্ত হলেই আত্মরক্ষার্থে লড়াই করবে।  

“ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় জরুরি মানবিক সহায়তা যত দ্রুত সম্ভব, যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে দৃঢ়ভাবে আশা করছি আমরা,” বিবৃতিতে বলেছে তারা। 

পানি, ওষুধের ঘাটতি

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও কাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর সেখানে আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কোঅর্ডিনেশন অব হিউমানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ)।

শুক্রবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দেশটিতে দুই হাজার ৭০০-র বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আহত ছাড়িয়েছে সাড়ে চার হাজার। বড় বড় অসংখ্য সেতু ও সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

“জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধারের সময়সীমা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুৎ বা পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন,” ইয়াংগন থেকে ভিডিও লিংকের সাহায্যে জেনিভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন ওসিএইচএ-র মিয়ানমারের আবাসিক ও মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ক মার্কোলুইগি কর্সি। 

ওসিএইচএ ছাড়াও জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা মিয়ানমারে বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেশটিতে কলেরা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছে তারা। 

“তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পানি, এখানে খুবই গরম। পানির পাইপ ও সেপটিক ট্যাংকগুলো ভেঙে গেছে,” ভিডিও লিংকের সাহায্যে বলেছেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়া রিজ। 

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ভূমিকম্পের পর দেশটির হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফুরিয়ে আসছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। হাসপাতালগুলোতেও পানি ও জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর মিয়ানমারের পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ-পর্যায়ের মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের কাছে থাকা প্লাস্টিক শিট, মশারি ও অন্যান্য উপকরণ পাঠাচ্ছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণেও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে; ত্রাণ নিয়ে ইয়াংগন থেকে মান্দালয়ে যেতে ইউএনএইচসিআরের দলগুলোর ১৩ ঘণ্টার মতো লাগছে। স্বাভাবিক সময়ে গাড়িতে ৮ ঘণ্টায় এই দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। 

“জরুরি ভিত্তিতে দরকার হচ্ছে আশ্রয় ও ত্রাণ সামগ্রী, চার বছর ধরে চলা সংঘাতের কারণে পথেঘাটে বিস্ফোরক অনেক কিছু থাকার ঝুঁকিও রয়েছে,” জেনিভায় সাংবাদিকদের বলেছেন ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি বাবর বালুচ। 

আরও পড়ুন-

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭১৯

মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় ত্রাণ পাঠাল বাংলাদেশ

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের সংকটের মধ্যেই বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী

মিয়ানমারে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছ