হুতি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মোট ৭৩ টি বিমান হামলায় তাদের ৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তারা এর জবাব দেবে।
Published : 12 Jan 2024, 04:55 PM
ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন হুতি গোষ্ঠীর কমান্ড সেন্টার, গোলাবারুদের মজুত ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ১৬ টি নিশানায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলাকে অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
ওদিকে, হুতিরা বলেছে, তাদের অবস্থানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এই হামলার জবাব তারা দেবে।
লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজগুলোর ওপর হুতিদের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনের হুতি অবস্থানে হামলা চালায়। ইয়েমেন জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জঙ্গি বিমান, জাহাজ এবং সাবমেরিন থেকে এই হামলা চলে।
হুতি জানিয়েছে, মোট ৭৩ টি বিমান হামলায় তাদের ৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তারা এই হামলার জবাব দেবে এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও তাদের হামলা বন্ধ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, “ইয়েমেনের বিভিন্ন নিশানায় হামলা এই স্পষ্ট বার্তাই দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্ররা আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর কোনও হামলা বরদাস্ত করবে না এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বিনষ্টকারী কোনও বৈরি কর্মকাণ্ডও ঘটতে দেবে না।”
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এইসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন হামলা অবৈধ।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, এইসব হামলা ছিল প্রতিরক্ষার জন্য সঠিক এবং প্রয়োজনীয় মাত্রায় সীমিত আকারে চালানো হামলা।
ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা কির স্টারমার এই হামলা সমর্থন করেছেন। তবে কয়েকটি বিরোধীদল পার্লামেন্ট অধিবেশন ডেকে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করার দাবি তুলেছে।
আর নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, বাহরাইন মিশনের অংশ হিসাবে এই হামলায় সমর্থন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
হুতিরা বলছে, গাজার ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ছোড়া ২১টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী। হামলা প্রতিহত করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইঙ্গিত দিয়েছিল, তারা হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
হুতিদের এসব হামলা বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও আহ্বান জানিয়েছিল। হামলা বন্ধ না করলে হুতিরা এর পরিণতি ভোগ করবে বলে হুঁশিয়ার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।