এবার ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

সম্মিলিত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানোর কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।

রয়টার্স
Published : 4 Feb 2024, 05:11 AM
Updated : 4 Feb 2024, 05:11 AM

সিরিয়া ও ইরাকে হামলার পরদিন ইয়েমেনে হুতিদের ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। গত সপ্তাহে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেনাঘাঁটিতে ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে দেশটি এই হামলা চালাচ্ছে।

সিরিয়া সীমান্তের কাছে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি টাওয়ার টোয়েন্টি টু তে গত রোববার ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হন, আহত হন আরো অন্তত ৪১ জন। তখনই ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শনিবার ইয়েমেনে হুতিদের যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয় তার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র মজুদ রাখার ভূগর্ভস্থ গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য আরো কিছু ব্যবস্থা। যেসব ব্যবস্থা ব্যবহার করে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করে আসছে।

পেন্টাগন থেকে বলা হয়, শনিবার ইয়েমেন জুড়ে ১৩টি এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, “এই সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে হুতিদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে তারা যদি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে তাদের অবৈধ আক্রমণ বন্ধ না করে তবে তাদের আরো পরিণতি ভোগ করতে হবে।"

ইয়েমেনে হামলার আগের দিন শুক্রবার ইরাক ও সিরিয়ায় ৮৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চলায় যুক্তরাষ্ট্র। বলেছে, তারা যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে সেগুলো ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড (আইআরজিসি) এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হামলায় দুই দেশে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ইরান বলেছে, টাওয়ার টোয়েন্টি টুতে হামলা পরিকল্পনায় তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, এই আক্রমণগুলি ‘যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড এবং কৌশলগত ভুল। যা শুধুমাত্র উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।”

সিরিয়া এবং ইরাকও যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আরো উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে।

এমনিতেই গাজা যুদ্ধ লেবানন এবং সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছর ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর তীব্র পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যে যুদ্ধ পঞ্চম মাসে পড়তে চলেছে। ইসরায়েলের তীব্র হামলায় গাজা ধ্বংস ও মৃত্যুর নগরীতে পরিণত হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গাজায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধের দাবিতে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের বেশিরভাগ অঞ্চলের দখল হুতি বিদ্রোহীদের হাতে।

উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস বলেন, “এটা উত্তেজনা বৃদ্ধি নয়। আমরা ইতিমধ্যই সফলভাবে হুতিদের আক্রমণে ব্যবহৃত লঞ্চার এবং অস্ত্রের গুদামে হামলা চালাতে পেরেছি এবং আমি নিশ্চিত যে, আমাদের সাম্প্রতিক এই আক্রমণগুলো হুতি বিদ্রোহীদের সক্ষমতা হ্রাস করেছে।”

ইরান সংশ্লিষ্ট দলগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও পেন্টাগন বলেছে, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না। এমনকি তেহরানও তাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না বলেই তাদের বিশ্বাস।

ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলার জবাব দেবে তা এখনো পরিষ্কার হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য সরাসরি ইরানে আক্রমণ করেনি। 

আরও পড়ুন:

Also Read: সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৪০

Also Read: ইরাক ও সিরিয়ায় ‘ইরান সমর্থিত’ ৮৫ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা