শি-বাইডেন বৈঠকে ‘আলোচ্যসূচির শীর্ষে তাইওয়ান’

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে এবারই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Nov 2022, 10:11 AM
Updated : 11 Nov 2022, 10:11 AM

আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন বৈঠকে বসবেন, তখন তাদের আলোচ্যসূচির শীর্ষে তাইওয়ানই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে এবারই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বহুল আকাঙ্ক্ষিত এ শীর্ষ বৈঠকটি এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে যখন বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্ক বেশ তিক্ত। তাইওয়ান ইস্যু ও এশিয়ায় বেইজিংয়ের কথিত ‘আগ্রাসী রূপ’ এই তিক্ততায় ঘি ঢালছে বলে মত পশ্চিমা বিশ্লেষকদের।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটির রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি- এ সবকিছুর নির্মাণ ও বিক্রিতে প্রযুক্তির ব্যবহার চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম নিয়ামক।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ও কথার লড়াইয়ের কারণে সমগ্র বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় মিত্র ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার নজর এখন জি২০ সম্মেলনের আগে সোমবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে হতে যাওয়া শি-বাইডেন বৈঠকের দিকেই।

কোভিড মহামারীর প্রায় পুরোটা সময়ই শি চীনে ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাকে দেশের বাইরে যেতে দেখা যাচ্ছে।

“তাইওয়ান নিয়ে যে আলোচনা করবো, তা নিশ্চিত। আমি যেটা করবো, সেটা হল আমরা যখন আলোচনা করবো, তখন আমাদের প্রত্যেকের লাল দাগ কোথায় তা ঠিক করা,” শি’র সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করার পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন বাইডেন।

এর মাধ্যমে তারা ঠিক করতে পারবে তারা একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে কি জড়াবে না, আর যদি জড়ায়ও তাহলে কীভাবে তার সমাধান হবে, কী করা লাগবে, বলেছেন তিনি।

বাইডেন আরও বলেছেন, তিনি তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ‘কোনো ধরনের মৌলিক ছাড়’ দিতে রাজি নন।

বেইজিং স্বশাসিত তাইওয়ানকে তার বিচ্ছিন্ন প্রদেশ এবং দ্বীপটি একদিন মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একত্রিত হবে বলেই মনে করে। অন্যদিতে তাইওয়ান নিজেদেরকে সার্বভৌম দেশ হিসেবেই দেখে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রেসিডেন্টদের মতো বাইডেন অবশ্য তাইওয়ান নিয়ে কৌশলী থাকছেন না; বারবারই বলছেন, চীন আক্রমণ চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সুরক্ষা দেবে।

তবে প্রত্যেকবারই হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে শুধরে দিয়ে বলে, তাইওয়ান নিয়ে ওয়াশিংটনের ‘কৌশলগত স্থিতাবস্থা’ বদলায়নি। যার অর্থ দাঁড়ায়, তারা তাইওয়ানের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি যেমন দিচ্ছে না, আবার তেমনি তা করার সম্ভাবনা উড়িয়েও দিচ্ছে না।

এদিকে শি সম্প্রতি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে ‘যুদ্ধে সমস্ত শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে এবং বিজয়ী হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে’ বলেছেন বলে কয়েকদিন আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ জোরদার করতে হবে, কেননা চীন একটি ‘অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত’ অবস্থানে আছে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস বলেছে, শি-বাইডেন বৈঠকের ফলাফল তাইওয়ানকে জানানো হবে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে তাইওয়ানকে ‘নিরাপদ ও স্বস্তিতে’ রাখা, বলেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সালিভান।

অন্যদিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল ধারণা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত চীনের সঙ্গে কাজ করা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন শান্তিতে থাকতে চায়, তবে ‘তাইওয়ান প্রসঙ্গ’ চীনের স্বার্থ কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত, বলেছেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক