Published : 22 Apr 2026, 12:42 AM
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কিছু সময় বাকি থাকলেও পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘শেষ মুহূর্তের’ শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধন্ত জানায়নি ইরান।
এর মধ্যেই ভারত মহাসাগরে এশিয়ায় ইরানের তেলবাহী একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি একটি ‘চমৎকার চুক্তির’ মাধ্যমে ইরানে যুদ্ধের অবসান চান। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চান না।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে এও বলেছেন, আলোচনা সফল না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা শুরু করতে ‘তৈরি’ আছে।
তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির মুখেও ইরানের দিক থেকে আলোচনায় বসার কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি।
আলোচনার আয়োজক দেশ পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, “শান্তি আলোচনায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ইরানি পক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইসলামাবাদ।
“মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ক্রমাগত ইরানিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণের চেষ্টা করছে।”
তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেছেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে ইরান এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি গত রোববার ওমান উপসাগরে ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করার ঘটনা এবং মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে এশিয়ায় ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন অভিযানকে ‘সাগরে জলদস্যুতা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব কর্মকাণ্ড শান্তি আলোচনায় বসার বিষয়ে তাদের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে বাঘাই উল্লেখ করেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে ‘টিফানি’ ট্যাংকারে তল্লাশি চালিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি শ্রীলঙ্কার কাছ দিয়ে সিঙ্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে ইরানের এই ‘অবৈধ নেটওয়ার্ক’ বন্ধে তারা এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ইরানি সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই জাহাজ জব্দের ঘটনা আলোচনায় বসার বিষয়ে তেহরানকে আরও নিরুৎসাহিত করছে। ইরান এর আগেও তাদের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধকে আলোচনায় না বসার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
আলোচনা হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হননি। তবে তাকে স্বাগত জানাতে ইসলামাবাদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও নতুন তথ্য অনুযায়ী, এটি বুধবার ইএসটি সময় রাত ৮টায় (ইরান সময় বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টা) শেষ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।