ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে নিয়ে এই মন্তব্য করার পাশাপাশি দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
ইরানকে মৃত এবং ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির নেতাদেরকে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ যখন নতুন করে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সপ্তম মাসে পদার্পণ করেছে এবং অবসান হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ক্ষোভ ঝাড়লেন।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করার পাশাপাশি দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে এক লাখের বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের নেতাদেরকে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।
ইরান তাদের নিরাপত্তা ও শসস্ত্র বাহিনীকে বেতন দিতে পারছে না বলেও তিনি দাবি করেন। হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি ক্ষে উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় মার্কিন বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সোশাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি একটি মৃত রাষ্ট্র। তাদের কোনও নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনী নেই, কোনও কার্যকর মুদ্রা নেই, তারা তাদের সেনা-পুলিশকে বেতন দিচ্ছে না, মুদ্রাস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে, এবং তাদের নেতৃবৃন্দ সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল এবং দেশের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম।”
তিনি আরও লেখেন, “তাদের (ইরান) কাছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছড়ানো ভুয়া খবর, নিজেদের দেশের বিক্ষোভকারীরদের নির্মমভাবে হত্যা করার মানসিকতা (যে সংখ্যা এখন ১ লাখেরও বেশি এবং যার জন্য তাদের মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া উচিত), এবং মিষ্টি কথায় 'ধোঁকা দেওয়ার' দক্ষতা ছাড়া আর কিছুই নেই।”
যুদ্ধ শুরুর দিনগুলো থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। কিন্তু কোনও বড় ধরনের দলত্যাগ বা ভাঙন ছাড়াই দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকে রয়েছে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তাদের এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
গত রোববার এ অঞ্চলে আবার সংঘাত শুরু হয়, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে, তারা এমন কিছু রকেট লঞ্চারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বহনকারী রকেট ছোঁড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ইরান দ্রুত পাল্টা জবাব দেয় এবং জর্ডানে মার্কিন সেনা থাকা একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার মাধ্যমে তারা আক্রমণের শিকার হলে পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা ও ইচ্ছা দেখায়।
এরপর ট্রাম্প সোমবার ইরানের পাল্টা জবাবের প্রতিক্রিয়া জানানোর অঙ্গীকার করেছেন, যা সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
একইদিনে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের চালানো কঠোর দমনপীড়নের কারণেই মূলত দেশটির সরকারের পতন হচ্ছে না। আর এ প্রসঙ্গেই তিনি ইরানে ১ লক্ষাধিক বিক্ষোভকারী হত্যার ওই পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন।
ইরানে বিক্ষোভকারী হত্যা নিয়ে এটি ট্রাম্পের উল্লেখ করা নতুন রেকর্ড। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভের সময় দেশটির বিরুদ্ধে আনুমানিক ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী হত্যার অভিযোগ করেছিলেন। বিক্ষোভকারী হত্যার নতুন তথ্য ট্রাম্প কীভাবে পেলেন তা স্পষ্ট নয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭ জন বলে জানিয়েছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। তারা এই মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল-সমর্থিত দাঙ্গাবাজদের দায়ী করেছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন বা যুদ্ধাপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে একত্রিত করেছেন বলেই প্রতীয়মান হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালানোর একটি অভিযান।
ওদিকে, ইরানও যুদ্ধের সময় বেসামরিক (সাধারণ) মানুষজনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ করেছে। সংঘাতের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা হয়, যাতে ১৬৮ জন মানুষ নিহত হয়েছিল এবং তাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু।
