Published : 27 Nov 2025, 02:49 PM
আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে মিয়ানমার জান্তা ৮ হাজার ৬৬৫ জনকে হয় ক্ষমা বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
নতুন এ আদেশে দণ্ডবিধির ৫০৫এ ধারায় দোষী সাব্যস্ত ৩ হাজার ৮৫ জনের সাজা কমানো হচ্ছে। এ ধারায় সেইসব বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয় যা আতঙ্ক সৃষ্টি করে বা ভুয়া খবর ছড়ায়।
পলাতক ৫ হাজার ৫৮০ জনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগও প্রত্যাহার করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার জানিয়েছে মিয়ানমারের গণমাধ্যম।
এই ৮ হাজার ৮৬৫ জনের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি কয়জন এবং ক্ষমাপ্রাপ্তরা কবে মুক্তি পাবে তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ঘোষণার আগে বুধবার মিয়ানমার জান্তার মুখপাত্র জ মিন তুন জানান, আসন্ন নির্বাচনে ‘অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে’ ভোট দিতে সব বৈধ ভোটারকে সহায়তার অংশ হিসেবেই এই সাজা কমানো বা অভিযোগ প্রত্যাহারের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালে দেশটির সামরিক বাহিনী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মিয়ানমার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ওই অভ্যুত্থানের পর থেকেই বন্দিদশায় দিন কাটছে সু চির।
অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ পরে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়, তাতে যুক্ত হয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিলিশিয়ারাও।
মানবাধিকার গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্সের হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক অভিযোগে জান্তা ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে।
সামরিক সরকার এখন ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কয়েক ধাপে নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু অনেক রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন অযোগ্য ঘোষণা করায়, এবং অনেকে বয়কট করায় ‘তামাশার’ নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত সামরিক শাসনকে সুসংহত করবে বলেই আশঙ্কা অনেক পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর।
দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের অস্থায়ী শরণার্থী মর্যাদা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
জান্তা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়ায় মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ধরে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক সঙ্কেত’ আখ্যা দিয়ে বুধবার জান্তার মুখপাত্র জ মিন তুন বলেছেন, ভোটে অংশ নিতে বিদেশে থাকা নাগরিকদের দেশে ফেরাকে স্বাগত জানানো হবে।