Published : 22 Aug 2026, 11:59 AM
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেইনে আরো দুজন নিহত হয়েছে বলে শনিবার ভোরে খবর দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আগের দিন শপিং সেন্টারে পরপর দুই হামলায় ১৬ জন নিহত ঘটনায় এখনো ৯ জন নিখোঁজ রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তার পর রাজধানী কিইভে একটি গুদামে আগুনে একজন নিহত হয়। আর জাপোরিঝঝিয়া শহরে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন আরেকজন।
এর আগে শুক্রবার ক্রিভি রিহ শহরের একটি ব্যস্ত শপিং মলে রাশিয়ার জোড়া ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার নিজ শহরে দিনের বেলায় চালানো ওই হামলা ছিল ‘একেবারেই নিষ্ঠুর ও নিন্দনীয়’।
তিনি বলেন, হামলাটি ‘দুই দফায়’ চালানো হয় এবং দ্বিতীয় হামলায় জরুরি সেবাকর্মীদের নিশানা করা হয়।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ওই শপিং মলে প্রথম হামলার পর আগুন জ্বলছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় ড্রোনটি এসে আঘাত হানে।
তবে এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ হামলায় ২৩ শিশুসহ অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্ডার হানঝা শনিবার ভোরে বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
হানঝা টেলিগ্রামে বলেন, শপিং সেন্টারটিতে এখনও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু।
এর আগে শুক্রবার হানঝা জানিয়েছিলেন, আহত ১৩০ জনের মধ্যে ২৯ জনের অবস্থা গুরুতর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীদের সহায়তা করতে ইউক্রেইনের আরও চার অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দলকে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হচ্ছে।
ক্রিভি রিহের মেয়র ওলেক্সান্ডার ভিলকুল বলেন, রাশিয়ার ড্রোনগুলো ‘খুব নিচ দিয়ে’ উড়ছিল। হামলাকারীদের তিনি ‘পশু’ বলে বর্ণনা করেন।
মেয়র আরও বলেন, “কিছু নিখোঁজ ব্যক্তি আছেন, তাদের ফোন করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”
কিইভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার ভোরে রাজধানীর দারনিতস্কি জেলায় একটি গুদামে আগুন লাগে।
প্রশাসন টেলিগ্রামে বলেছে, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত এক পুরুষ নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ।
হামলার পর কিছু জীবিত ব্যক্তিকে সহায়তা দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার ইউক্রেইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হন।
আর বৃহস্পতিবার ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভে রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হন।
ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনী শুক্রবার ভোরে জানায়, তারা রাশিয়ার ভেতরে অনেক দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার ও একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেইন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি দেশটির সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতেও হামলা জোরদার করেছে।
কিইভ এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়নে সহায়তা করে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন। মস্কো বর্তমানে ইউক্রেইনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।